পরীক্ষামূলক সংস্করণ

ট্রাম্পের এক বিলেই বদলে যাচ্ছে ভারত-মার্কিন সম্পর্কের সমীকরণ

রাশিয়ার তেল ও গ্যাস কেনা অব্যাহত রাখা দেশগুলোর ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের মার্কিন বিল ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরের অপেক্ষায় থাকায় ভারত-মার্কিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নতুন অনিশ্চয়তা ও জটিলতা তৈরি হয়েছে।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, মার্কিন কংগ্রেসে ‘লিন্ডসে ও গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬’ পাস হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বর্তমানে বিলে স্বাক্ষরের প্রক্রিয়ায় রয়েছেন। ভারত রাশিয়ার অপরিশোধিত তেলের অন্যতম প্রধান ক্রেতা হওয়ায় এই আইনটি দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে বড় ধরনের বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিলে স্বাক্ষর করতে ইচ্ছুক হলেও ভারতের বিরুদ্ধে তিনি এই ক্ষমতা কীভাবে প্রয়োগ করবেন বা কতটা শুল্ক বসাবেন তা এখনও স্পষ্ট নয়। বিলে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের বিধান রয়েছে। এই শুল্কের হার নির্ধারণের মূল দায়িত্ব থাকবে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ারের ওপর।

সেন্টার ফর রিসার্চ অন এনার্জি অ্যান্ড ক্লিন এয়ারের তথ্যমতে, গত জুন মাসে ভারতের রুশ তেল আমদানি আগের মাসের চেয়ে ৩৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৪.৫ বিলিয়ন ইউরোতে পৌঁছেছিল। এই পরিমাণ রাশিয়ার মোট রপ্তানির প্রায় ৩৬ শতাংশ, যা চীনের পর ভারতকে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম রুশ তেল ক্রেতায় পরিণত করেছে।

এই আশঙ্কাজনক পরিস্থিতি নিয়ে ভারতীয় ও মার্কিন কর্মকর্তাদের মধ্যে জোরালো কূটনৈতিক আলোচনা চলছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা মার্কিন প্রতিনিধিদলকে বিলটির সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আগামী সপ্তাহগুলোতে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হতে পারে এবং ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর আগামী তিন মাসে তিনবার যুক্তরাষ্ট্র সফরে যেতে পারেন।

নতুন এই নিষেধাজ্ঞা বিল দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আলোচনাকে আরও জটিল করে তুলেছে। নয়াদিল্লি মার্কিন বাজারে এশিয়ার অন্যান্য অর্থনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের চেয়ে ভারতীয় পণ্যের প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতির দাবি জানিয়ে আসছিল। কিন্তু নতুন আইনি পদক্ষেপের কারণে সে সুবিধা হুমকির মুখে পড়েছে।

এর আগে বাধ্যতামূলক শ্রমের অভিযোগে ভারতের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল ওয়াশিংটন। তাছাড়া অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা নিয়ে চলমান আরেকটি মার্কিন তদন্তের কারণে ভারত অতিরিক্ত শুল্কের ঝুঁকিতে রয়েছে, যা পাকিস্তানসহ আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় ভারতীয় পণ্যের সুবিধাজনক বাজার অবস্থান ধরে রাখা কঠিন করে তুলবে।

মার্কিন কংগ্রেসে বিলটি পাসের পর আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। চীন এই একতরফা মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী হিসেবে প্রত্যাখ্যান করেছে। অন্যদিকে ক্রেমলিনের মুখপাত্র একে একটি ‘অবন্ধুসুলভ পদক্ষেপ’ বলে অভিহিত করেছেন।

বিপরীতমুখী অবস্থান নিয়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই পদক্ষেপকে চলমান যুদ্ধ থামানোর ‘অত্যন্ত শক্তিশালী হাতিয়ার’ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন। পাশাপাশি ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেইন প্রস্তাবিত বিলটিকে একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

প্রধান খবর

ট্রাম্পের এক বিলেই বদলে যাচ্ছে ভারত-মার্কিন সম্পর্কের সমীকরণ

রাশিয়ার তেল ও গ্যাস কেনা দেশগুলোর ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের মার্কিন বিলে স্বাক্ষর করছেন ট্রাম্প। ভারতের রুশ তেল আমদানি ও নতুন বাণিজ্য জটিলতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় ওয়াশিংটন সফরে যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে বিশেষ নজরের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে বিশেষ নজর দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাজধানীর লেকগুলোর দূষণ রোধ, পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশ উন্নয়নেও সমন্বিত কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

‘নৌকা’ স্থগিত, ব্যালটে ফিরল ‘না’ ভোট

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘নৌকা’ প্রতীক স্থগিত রেখে ১২০টি প্রতীক চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন। নতুন প্রজ্ঞাপনে একক প্রার্থীর আসনে ব্যালটে ‘না’ ভোট যুক্ত করার পাশাপাশি হলফনামা ও ব্যাংক হিসাবে বেশ কিছু সংশোধনী আনা হয়েছে।

আসছে...