কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষকের সন্তান অপ্রতিম হত্যার ঘটনায় জড়িত চার আসামিকে ১২ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে এবং অভিযুক্তরা মূলত কিশোর অপরাধী চক্রের সদস্য বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
আজ রোববার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ কুমিল্লার এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের তথ্য জানান। তিনি বলেন, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগম এবং মোবাইল অ্যাকসেসরিজ ব্যবসায়ী কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যার ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। এ ঘটনায় নিহত শিশুটির নিখোঁজ হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং পরবর্তী ১২ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশের কার্যকর পদক্ষেপে জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা ইতোমধ্যে নিজেদের অপরাধ স্বীকারও করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা নিহত অপ্রতিমের চেয়ে বয়সে ৫ থেকে ১০ বছর বড় হলেও তাদের সঙ্গে অপ্রতিমের ওঠাবসা ও বন্ধুত্ব ছিল। তারা মূলত কিশোর অপরাধ চক্রের মতো কাজ করেছে। মন্ত্রী এই হত্যাকাণ্ডের পারিপার্শ্বিক তথ্য-উপাত্ত ও নিহত অপ্রতিমের সাথে থাকা আইফোনটিসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ আলামত দ্রুততম সময়ে উদ্ধার করায় পুলিশের দক্ষতার প্রশংসা করেন। পাশাপাশি পল্লবীতে আট বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার মামলার মতো অপ্রতিম হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদনও দ্রুত দাখিলের জন্য সরকার পদক্ষেপ নেবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
সমাজে নৈতিক অবক্ষয়, পচন এবং অপরাধ বাড়ার পেছনের কারণ হিসেবে মাদক ও জুয়ার প্রভাবকে দায়ী করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশের সচেতন নাগরিকদের এগিয়ে আসতে হবে। শুধু বিচারে সীমাবদ্ধ না থেকে শিশুদের সঠিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় পর্যায়ে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড জোরদারের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। বর্তমান সরকার প্রতিটি জঘন্য অপরাধের রহস্য দ্রুত উদ্ঘাটন করতে সক্ষম হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।
নিহত ১৩ বছরের অপ্রতিম কোটবাড়ি এলাকার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সে মা-বাবার সঙ্গে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোটবাড়ি এলাকায় বসবাস করত। উল্লেখ্য, বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলবে বলে গত শুক্রবার দুপুরে মায়ের আইফোন নিয়ে বাসা থেকে বের হয় অপ্রতিম। নিখোঁজের প্রায় ২২ ঘণ্টা পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের জঙ্গল থেকে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে এবং প্রয়োজনীয় ফরেনসিক পরীক্ষা ও ময়নাতদন্ত শেষে তার দাফন সম্পন্ন হয়।



