আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও বিপিসির বিপুল আর্থিক লোকসান সামাল দিতে দেশের বাজারে ডিজেল, কেরোসিন, অকটেন ও পেট্রোলের দাম লিটারে সর্বজনীনভাবে ২০ টাকা করে বাড়িয়েছে সরকার।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও পরিবহন খরচ (ফ্রেইট চার্জ) উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পায়। বিশ্ববাজারে মূল্য দ্বিগুণেরও বেশি বাড়লেও জনস্বার্থ বিবেচনায় দেশের বাজারে তা তাৎক্ষণিকভাবে পুরোপুরি সমন্বয় করা হয়নি। এর ফলে চলতি বছরের মার্চ থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত মাত্র ছয় মাসে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) মোট ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা লোকসান হয়।
এমন প্রেক্ষাপটে সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও জ্বালানি খাতের লোকসান নিয়ন্ত্রণে আনতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ নতুন এই মূল্য সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জারি করা এক সরকারি প্রজ্ঞাপনে চার ধরনের জ্বালানি তেলের নতুন দাম নির্ধারণের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী নির্ধারিত এই নতুন মূল্য একই দিন রাত ১২টা থেকে সারা দেশে একযোগে কার্যকর হয়।
নতুন মূল্যসূচি অনুযায়ী, প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১১৫ টাকা থেকে ২০ টাকা বেড়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩৫ টাকা। একইভাবে কেরোসিনের দাম ১৩৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে প্রতি লিটার ১৫৫ টাকা করা হয়েছে। পেট্রোলের ক্ষেত্রে আগের দর ১৪০ টাকার জায়গায় প্রতি লিটারে দিতে হবে ১৬০ টাকা। এ ছাড়া প্রিমিয়াম গ্রেডের অকটেনের দাম প্রতি লিটারে ১৪৫ টাকা থেকে ২০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ১৬৫ টাকায়।
সরকার প্রকাশিত ওই প্রজ্ঞাপনে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দিয়ে উল্লেখ করা হয়েছে, “মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে মার্চ থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও ফ্রেইট চার্জ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম দ্বিগুণের বেশি বাড়লেও জনস্বার্থে দেশে তা পুরোপুরি সমন্বয় করা হয়নি। এতে মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) প্রায় ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে।”



