চীন-বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বাংলাদেশের শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি সমুদ্র অর্থনীতি (ব্লু ইকোনমি), মানবসম্পদ উন্নয়ন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় দুই দেশের যৌথভাবে কাজ করার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেছেন।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ-চীন শাসন অভিজ্ঞতা বিনিময়: দ্বিতীয় রাউন্ডটেবিল’ সেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ঝড়, বৃষ্টি কিংবা রোদ—সব পরিস্থিতিতেই চীন ও বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে চলছে।
চীনের অর্থনৈতিক অগ্রগতির উদাহরণ তুলে ধরে এহছানুল হক মিলন বলেন, বিশাল জনসংখ্যাকে সম্পদে রূপান্তর করে চীন বিশ্ব অর্থনীতিতে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। বাংলাদেশের জনসংখ্যাও দেশের অন্যতম প্রধান সম্পদ উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমানে ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’ বা জনমিতিক সুবিধাকে কাজে লাগানোর উপযুক্ত সময়।
বক্তব্যে তিনি ১৯৮১ সালে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমুদ্রভিত্তিক সম্পদ অন্বেষণের উদ্যোগের কথা স্মরণ করেন। একই সঙ্গে বর্তমান সরকার তরুণ প্রজন্মকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান।
দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৬৫ শতাংশ কর্মক্ষম উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষা খাতে বাজেট বাড়ানো হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে জিডিপির ২ শতাংশ থেকে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। এর মাধ্যমে শিল্প ও একাডেমিক খাতের মধ্যে সংযোগ তৈরি করে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা বিস্তারের কথা জানান তিনি।
সম্প্রতি চীন সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে এহছানুল হক মিলন দেশটির পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ও প্রযুক্তিগত অবকাঠামোর আদলে বাংলাদেশেও শিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়নের আগ্রহ প্রকাশ করেন।
জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি। স্যাটেলাইট ও আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের আগাম পূর্বাভাস এবং ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেন শিক্ষামন্ত্রী।
এহছানুল হক মিলন আশা প্রকাশ করেন, শিক্ষা চীন ও বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও দীর্ঘস্থায়ী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে সমুদ্র অর্থনীতি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় চীন তাদের অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তি ও দক্ষতা দিয়ে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।



