ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাঁর মাকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলার প্রধান আসামি শরীফের বাড়িঘর হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেছেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
আজ মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে নয়টার দিকে গফরগাঁওয়ে প্রধান আসামি শরীফের বাড়িতে এই হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ঘটনাটির আগে গত বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাত আটটার দিকে ভুক্তভোগী নারীর বাড়িতে ধর্ষণের এই ঘটনাটি ঘটে। পরবর্তীতে পরদিন শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাতে নির্যাতিতা নারী নিজে বাদী হয়ে গফরগাঁও থানায় পাঁচজনকে অভিযুক্ত করে একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী ওই নারীর স্বামী একজন প্রবাসী। গত বৃহস্পতিবার রাতে পানি ও কুড়াল চাওয়ার অজুহাতে পাঁচ যুবক তাদের বসতবাড়ির দরজার কাছে যায়। এ সময় প্রবাসীর নবম শ্রেণি পড়ুয়া ছেলে পানি নিয়ে দরজার কাছে এলে আসামিরা তাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ফেলে। এরপর আসামিরা ঘরে ঢুকে ওই নারীকে জোরপূর্বক দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে। শুধু তাই নয়, ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের কাছে টাকাও দাবি করে অভিযুক্তরা।
ঘটনার পরপরই ভুক্তভোগীর করা মামলায় পাঁচজনকে আসামি করা হয়। অভিযুক্ত আসামিরা হলেন—গফরগাঁওয়ের শরীফ (২৩), তাঁর ভাই আরিফ (২১), ফাহিম (২২), রাজীব (২৩) ও এনামুল (২২)। মামলার পর অভিযান চালিয়ে রাজীব নামের এক আসামিকে ঘটনার রাতেই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে প্রধান আসামি শরীফসহ বাকি চার আসামি এখনও পলাতক রয়েছে।
এদিকে ঘটনার সুরাহা, সুষ্ঠু বিচার ও পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে গত রবি ও সোমবার সন্ধ্যায় স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের মধ্যে বৈঠক করেন। পরবর্তীতে আজ মঙ্গলবার সকালে উত্তেজিত এলাকাবাসী প্রধান আসামি শরীফের বাড়িতে গিয়ে বসতঘরের টিনের বেড়া ও চাল ভাঙচুর করেন এবং টিনগুলো খুলে বাড়ির পাশে স্তূপ করে রাখেন। তবে ভাঙচুরের আগেই আসামিদের পরিবারের সদস্য ও মালামাল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।
বাড়িঘর ভাঙচুরের খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে দ্রুত পুলিশ পাঠানো হয়। এ বিষয়ে গফরগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান সেখ জানান, এলাকাবাসীকে আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং পলাতক আসামিদের গোপন অবস্থান সম্পর্কে পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি পলাতক বাকি চার আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।



