জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক সফরের প্রথম দিনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১০টি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন।
নিউইয়র্কের বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের ডিপ্লোম্যাট সেন্টারে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে মাহ্দী আমিন জানান, যুক্তরাষ্ট্র সফরের প্রথম দিনে সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন কর্মসূচি ছিল। পূর্বনির্ধারিত ১২টি কর্মসূচির মধ্যে সময়স্বল্পতার কারণে দুটি বাদে ১০টিতে তিনি সরাসরি অংশ নেন।
দিনের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী ও তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান জাতিসংঘ মহাসচিবের আমন্ত্রণে আয়োজিত বিশেষ প্রাতঃরাশে অংশ নেন। পরে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের উদ্বোধনী ও উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্কের পর্বে যোগ দেন।
প্রথম দিনে আঞ্চলিক ও দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা নিয়ে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী, মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্ট, হাইতির প্রধানমন্ত্রী এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। এসব বৈঠকে আঞ্চলিক সহযোগিতা, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও বিভিন্ন অভিন্ন স্বার্থের বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) এবং জাতিসংঘ মহাসচিবের মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূতের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। আলোচনায় রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
এ ছাড়া বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গার সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ, বাণিজ্য, অর্থনীতি ও উন্নয়ন সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়।
সময়স্বল্পতার কারণে ইউরোপিয়ান কাউন্সিল ও মেটার সঙ্গে নির্ধারিত বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি অংশ নিতে পারেননি। তবে মেটার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর মনোনীত একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল বৈঠক করে। আলোচনায় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, প্রযুক্তি ও ডিজিটালাইজেশনসহ বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে।
দিনের শেষভাগে প্রধানমন্ত্রী ও তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমন্ত্রণে আয়োজিত নৈশভোজে অংশ নেন।
মাহ্দী আমিনের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথম দিনের এসব কর্মসূচিতে বাংলাদেশের কূটনৈতিক, আঞ্চলিক, মানবিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।



