তৌফিকুর রহমান
প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ; আদালতের নথিতে একাধিক মামলার তথ্য
ঋণ দেওয়ার কথা বলে টাকা নিয়ে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মো. মোবারক হোসেনকে রাজধানীর ধানমন্ডি থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার ধানমন্ডি ২৭ নম্বর এলাকার কনকর্ড টাওয়ারের সপ্তম তলার একটি বাসা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমদাদ হোসেন অল ক্রাইম ডট টিভিকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আদালত থেকে মোবারক হোসেনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছিল।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ধানমন্ডি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মনিরের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে মোবারককে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারের পর মোবারককে আদালতে সোপর্দ করা হয়। তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বলে জানিয়েছেন এসআই মনির।
মোবারক হোসেনের বিরুদ্ধে ঋণ দেওয়ার আশ্বাসে টাকা নেওয়া, পরে ঋণ না দেওয়া, টাকা ফেরত না দেওয়া এবং টাকা চাইতে গেলে হামলার অভিযোগ রয়েছে। আদালতে জমা দেওয়া অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট নথিতে এসব অভিযোগের তথ্য পাওয়া গেছে।
মো. মাসুদ রানা নামের এক ব্যক্তি আদালতে করা অভিযোগে দাবি করেন, ঋণ পাওয়ার আশায় তিনি কয়েক দফায় মোট ১৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা দিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি ঋণ পাননি। নিজের টাকা ফেরত চাইতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন বলেও তাঁর অভিযোগ।
ঋণের আশায় ১৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা
অভিযোগপত্রে মাসুদ রানা বলেন, তিনি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে সহকারী ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করতেন। প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে ঋণ দেওয়ার আশ্বাসে তাঁর কাছ থেকে কয়েক দফায় টাকা নেওয়া হয়।
মাসুদ রানার ভাষ্য, প্রতিষ্ঠানের প্রচার ও ঋণ দেওয়ার আশ্বাসে বিশ্বাস করে তিনি মোট ১৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা দেন। পরে ঋণের জন্য আবেদন করলেও তাঁকে ঋণ দেওয়া হয়নি। বরং বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করা হয়।
২০২৪ সালে নিউ স্ট্যান্ডার্ড ফাইন্যান্স অ্যান্ড কমার্স নামের প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ঋণ দেওয়ার নামে গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। সেসব প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান হিসেবে মোবারক হোসেনের নাম উল্লেখ করা হয়।
টাকা চাইতে গিয়ে হামলার অভিযোগ
আদালতে দেওয়া অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের মে মাসে ঋণ ও নিজের দেওয়া টাকার বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের কাছে যান মাসুদ রানা। সেখানে তাঁর ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়। একপর্যায়ে তাঁকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মাসুদ রানার দাবি, হামলায় তাঁর বুক, গলা ও মুখে আঘাত লাগে এবং তিনি মাটিতে পড়ে যান। ওই সময় তাঁর সঙ্গে থাকা স্ত্রীর কাছ থেকে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকাও নিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে আহত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
মোবারকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
আদালতের নথিতে মোবারক হোসেনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির তথ্য রয়েছে। নথিতে ফৌজদারি কার্যবিধির ৭৫ ধারার উল্লেখ করে তাঁকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
পুলিশ জানায়, ওই পরোয়ানার পর মোবারকের অবস্থান শনাক্ত করে ধানমন্ডির বাসাটিতে অভিযান চালানো হয়। পরে তাঁকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়।
বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা
আরেকটি নথিতে মোবারক হোসেনের বিরুদ্ধে রাজধানীর পল্টন, ধানমন্ডি ও বনানী এবং গাজীপুর সদর ও সাভার এলাকায় দায়ের হওয়া একাধিক মামলার তথ্য পাওয়া গেছে।
নথিতে দণ্ডবিধির ৪০৬ (বিশ্বাসভঙ্গ), ৪২০ (প্রতারণা), ৫০৬ (ভয়ভীতি প্রদর্শন), ৩২৩ (আঘাত), ৩২৬ (গুরুতর আঘাত), ৩০৭ (হত্যাচেষ্টা) ও ৩৭৯ (চুরি) ধারাসহ বিভিন্ন ধারায় মামলার তথ্য রয়েছে। মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর অধীন করা একটি মামলার তথ্যও নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
তবে এসব মামলার বর্তমান অবস্থা এবং অভিযোগগুলোর বিচারিক নিষ্পত্তি সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগকারী মাসুদ রানা তাঁর দেওয়া টাকা ও স্ত্রীর স্বর্ণালংকার উদ্ধারের পাশাপাশি অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন।
মোবারক হোসেনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বা তাঁর আইনজীবীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।



