সৌদি আরবে দীর্ঘ ১০ বছর প্রবাসজীবন কাটিয়ে কষ্টার্জিত প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকা দেশে পাঠিয়েছিলেন এক প্রবাসী। মায়ের কাছে পাঠানো অর্থের একটি অংশ ছিল ব্যাংক হিসাবে, আবার পরিচিত ও বন্ধুদের মাধ্যমে হ্যান্ড ক্যাশ হিসেবেও দেশে পাঠিয়েছেন তিনি। কিন্তু মায়ের মৃত্যুর পর সেই অর্থের বড় একটি অংশ নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে।
ভুক্তভোগীর দাবি, তার মা বয়সজনিত কারণে বিভিন্ন আর্থিক বিষয় নিজে পরিচালনা করতে পারতেন না। এ সুযোগে তার মেজ বোন ও বোনজামাই অর্থের লেনদেন ও ব্যবস্থাপনায় যুক্ত হন।
প্রবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, জীবিত অবস্থায় তার মা তাকে আশ্বস্ত করেছিলেন-তার কষ্টার্জিত টাকা তিনি তাকে বুঝিয়ে দেবেন। কিন্তু মায়ের মৃত্যুর পর পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে যায়। নিজের পাঠানো অর্থ ফেরত চাইলে তিনি তার মেজ বোন ও বোনজামাইয়ের কাছ থেকে সহযোগিতার পরিবর্তে বাধা, হয়রানি ও হুমকির মুখে পড়েছেন বলে অভিযোগ করেন।
অভিযোগ রয়েছে, টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে তাকে হামলারও শিকার হতে হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্নভাবে হয়রানি ও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।
ভুক্তভোগী জানান, সৌদি আরবে থাকার সময় পরিবারের ওপর বিশ্বাস রেখে তিনি বছরের পর বছর টাকা দেশে পাঠিয়েছেন। কখনো মায়ের কাছে, কখনো ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে এবং কখনো পরিচিত বন্ধুদের মাধ্যমে দেশে অর্থ পাঠিয়েছেন। সব মিলিয়ে তার পাঠানো অর্থের পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকা বলে দাবি তার।
তিনি বলেন, “১০ বছর সৌদি আরবে থেকে কঠোর পরিশ্রম করে টাকা উপার্জন করেছি। নিজের জন্য নয়, পরিবারের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করেই দেশে টাকা পাঠিয়েছি। মায়ের ওপর আমার পূর্ণ বিশ্বাস ছিল। মা মারা যাওয়ার আগে আমাকে বলেছিলেন, আমার টাকা আমাকে বুঝিয়ে দেবেন। কিন্তু তার মৃত্যুর পর আমি এখন আমার নিজের টাকাই ফেরত পাচ্ছি না।”
তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, অর্থ ফেরত চাওয়ার পর তাকে হুমকি ও হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। এমনকি হামলার ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি।
বিষয়টি নিয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) ও মামলা করার চেষ্টা করেও প্রত্যাশিত প্রতিকার পাননি বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীর। পুলিশ ও আদালতের দ্বারস্থ হলেও দীর্ঘ সময় ধরে ঘুরেও তিনি এখনো ন্যায়বিচার পাননি বলে দাবি করেন তিনি।
ভুক্তভোগীর দাবি, তার কাছে টাকা পাঠানোর বিভিন্ন তথ্য, লেনদেনের নথি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তথ্য রয়েছে। এসব তথ্য যাচাই করে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের করে তার কষ্টার্জিত অর্থ উদ্ধারের ব্যবস্থা করার দাবি জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, “আমি কারও সম্পদ নিতে চাই না। শুধু আমার ১০ বছরের পরিশ্রমের টাকা ফেরত চাই। আমি চাই, বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত হোক এবং যারা আমার সঙ্গে অন্যায় করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”
এ ঘটনায় অভিযুক্ত মেজ বোন ও বোনজামাইয়ের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনে তা সংযুক্ত করা হবে। একই সঙ্গে অর্থ আত্মসাৎ, হামলা ও হুমকির অভিযোগের সত্যতা তদন্তসাপেক্ষ; আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত কাউকে দোষী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না।
দীর্ঘ ১০ বছরের প্রবাসজীবনের কষ্টার্জিত অর্থ ফিরে পাওয়া এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আশায় এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ওই প্রবাসী।



