রোহিঙ্গা সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে, তাই এর সমাধানও মিয়ানমারেই হতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার (৩ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলন ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন (বিওবিসি) ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এখনও প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে। তাদের দ্রুত, স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করাই বাংলাদেশের প্রধান লক্ষ্য।
এ জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত রাজনৈতিক সমর্থন ও আন্তর্জাতিক অর্থায়ন প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, একই সঙ্গে সংকটের মূল কারণগুলোর সমাধান করতে হবে। যে সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে, তার সমাপ্তিও মিয়ানমারেই হতে হবে।
এর আগে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে ২৩ সেপ্টেম্বর রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকেও একই বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, রাখাইন রাজ্যের পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক। বাংলাদেশ চায় না রোহিঙ্গারা চিরকাল বাস্তুচ্যুত অবস্থায় থাকুক।
তারেক রহমান বলেন, রোহিঙ্গারা যেন নিরাপদে, স্বেচ্ছায় ও মর্যাদার সঙ্গে নিজেদের অধিকার সুরক্ষিত রেখে মিয়ানমারে ফিরে যেতে পারে, বাংলাদেশ সেটিই চায়। মানবিকতার সঙ্গে বাংলাদেশ তার দায়িত্ব পালন করেছে উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কেও দৃঢ়ভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।
এবারের বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনে সার্বিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বরিস তাদিচ, মালদ্বীপের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নাশিদ ও মালির সাবেক প্রধানমন্ত্রী মুসা মারাসহ বিভিন্ন দেশের সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তা, কূটনীতিক, নীতিনির্ধারক, গবেষক, ব্যবসায়ী, প্রযুক্তিবিদ ও বিশেষজ্ঞরা অংশ নিচ্ছেন।
৩ থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে সম্মেলনটি। এতে শতাধিক দেশের প্রায় ২০০ জন বক্তা, ৩০০ জনের বেশি প্রতিনিধি এবং এক হাজারের বেশি অংশগ্রহণকারী যোগ দিচ্ছেন। এবারের সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ‘ফ্র্যাগমেন্টস, ফ্রন্টিয়ার্স অ্যান্ড ফিউচারস: নেভিগেটিং পাওয়ার, টেকনোলজি অ্যান্ড ট্রাস্ট ইন আ ওয়ার্ল্ড রিরিটেন’।



