ইরানের সেনাবাহিনী ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ও গতি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহেরের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
রোববার (৪ অক্টোবর) এক সাক্ষাৎকারে আকরামিনিয়া বলেন, সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি যুদ্ধের পর ইরানের সেনাবাহিনী ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়। এরই মধ্যে এ বিষয়ে কাজ শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন, যুদ্ধের সময় ইরান স্থলবাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্র ও নৌবাহিনীর জাহাজ থেকে নিক্ষেপ করা ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। এসব ক্ষেপণাস্ত্র কার্যকারিতা প্রমাণ করেছে বলে দাবি করেন তিনি।
আকরামিনিয়া বলেন, শত্রুপক্ষ এখন ইরানের উপকূল থেকে আরও দূরে, প্রায় ১ হাজার কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থান করছে। এ কারণে ক্ষেপণাস্ত্রের গতি ও পাল্লা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
তিনি জানান, সেনাবাহিনীর বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রের সক্ষমতা বাড়ানোর কাজ করা হবে। পাশাপাশি ক্ষেপণাস্ত্রের গতি ও নির্ভুলতা বাড়ানোর ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ক্ষেপণাস্ত্রে এসব উন্নত সক্ষমতা আরও বেশি কাজে লাগানো হবে।
ইরানের দাবি, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দেশটির বিরুদ্ধে দ্বিতীয় দফায় যুদ্ধ শুরু করে। তেহরানের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ও জ্যেষ্ঠ সামরিক কমান্ডারদের হত্যা করা হয়। পরে ইরানের পাল্টা অভিযানের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় বলে দাবি করে ইরান।
তেহরান আরও অভিযোগ করেছে, যুদ্ধ শেষ করার জন্য গত ১৭ জুন স্বাক্ষরিত ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক লঙ্ঘন করে জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর ধারাবাহিক বিমান হামলা চালায় এবং নৌ অবরোধ আরোপ করে।



