ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় বিরোধের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনায় দুজন গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। শনিবার (৪ অক্টোবর) রাতে উপজেলার পশ্চিম ইউনিয়নের চরলাপাং গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
গুলিবিদ্ধ দুজন হলেন চরলাপাং গ্রামের ফুল মিয়া (৬০) ও একই গ্রামের সুমন মিয়ার স্ত্রী উম্মে হানি (২২)। তাদের উদ্ধার করে প্রথমে নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চরলাপাং গ্রামে একটি সড়ক নির্মাণের সময় অহিদ মিয়া বাধা দিলে গ্রামবাসীর সঙ্গে তার বিরোধের সূত্রপাত হয়। সম্প্রতি সড়কটির নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর গ্রামের মুসলেম মিয়া কৃষকদের জমিতে ভাড়ায় চাষ দেওয়ার জন্য একটি ট্রাক্টর কিনে আনেন। এতে দুই পক্ষের বিরোধ আরও তীব্র হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ট্রাক্টর ভাড়া দেওয়ার ব্যবসায় একক আধিপত্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় অহিদ মিয়া ও তার ভাই উবায়দুল মিয়া মুসলেম মিয়ার ওপর ক্ষুব্ধ হন। এ নিয়ে কয়েক দিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল।
এরই জেরে শনিবার রাতে অহিদ মিয়া নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার মির্জারচর গ্রাম থেকে লোকজন ভাড়া করে আনেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে তার নেতৃত্বে ওই লোকজন মুসলেম মিয়ার পক্ষের লোকজনের ওপর হামলা চালালে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় গোলাগুলিতে মুসলেম মিয়ার পক্ষের ফুল মিয়া ও উম্মে হানি গুলিবিদ্ধ হন। সংঘর্ষে আরও আটজন আহত হন।
নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপসহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার রোকসানা খাতুন বলেন, শনিবার রাতে ডান হাতে গুলিবিদ্ধ দুজন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন। পরে তাদের কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদুল আলম চৌধুরী বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে আগে থেকেই আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ ছিল। সম্প্রতি গ্রামের একটি রাস্তা নিয়ে সেই বিরোধ আরও তীব্র হয়। এক পক্ষ নরসিংদীর রায়পুরার মির্জারচর থেকে লোকজন ভাড়া এনে হামলা চালায়। সংঘর্ষে গোলাগুলির ঘটনায় দুজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।



