আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা বহাল চায় আবরারের পরিবার
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় বিচারিক আদালত ও হাইকোর্টে মৃত্যুদণ্ড বহাল রয়েছে। এখন আপিল বিভাগে শুনানি বাকি। পরিবারের দাবি, মামলাটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত শুনানি করে আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা বহাল রাখা হোক।
২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর বুয়েটের শেরেবাংলা হলের একটি কক্ষে আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করেন ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী। ফেসবুকে ভারতবিরোধী স্ট্যাটাস দেওয়ার জেরে তাকে হত্যা করা হয় বলে মামলার অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।
হত্যাকাণ্ডের পরদিন আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ চকবাজার থানায় ১৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। একই বছরের ১৩ নভেম্বর ২৫ জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়।
২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর ঢাকার বিচারিক আদালত এ মামলায় ২০ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। পরে আসামিপক্ষের আপিল ও মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য ডেথ রেফারেন্সের শুনানি শেষে ২০২৫ সালের ১৬ মার্চ হাইকোর্টও নিম্ন আদালতের রায় বহাল রাখেন।
এখন মামলাটি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হয়েছে। তাদের প্রত্যাশা, আপিল বিভাগে শুনানির পর আসামিরা ন্যায়বিচার পাবেন।
আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ জানিয়েছেন, দুই মাস আগে আইনমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে মামলাটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত শুনানির ব্যবস্থা করার আবেদন জানিয়েছেন তিনি। আইনমন্ত্রীও দ্রুত শুনানির বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানান তিনি।
বরকত উল্লাহর দাবি, তাঁর ছেলের হত্যার দায়ে আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা বহাল রেখে দ্রুত তা কার্যকর করা হোক।
মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ২০ আসামির মধ্যে কয়েকজন এখনও পলাতক। অন্যদিকে ২১ আসামি কারাগারে রয়েছেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখন নির্ভর করছে আপিল বিভাগের শুনানির ওপর।



