নাটোর শহরের বড়হরিশপুর চেয়ারম্যানপাড়া এলাকায় পুত্রবধূর বালতির আঘাতে শাহারা বেগম (৫৫) নামে এক নারীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাতে নাটোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত শাহারা বেগম ওই এলাকার মৃত মুনসুর রহমানের স্ত্রী। ঘটনার পর অভিযুক্ত পুত্রবধূ কলি খাতুন পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শাহারা বেগমের ছেলে সাইফুল ইসলাম বিদেশে থাকাকালে তার স্ত্রী কলি খাতুনের বিরুদ্ধে পরকীয়ায় জড়ানোর অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি জানার পর শাহারা বেগমের সঙ্গে পুত্রবধূর প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ হতো। একপর্যায়ে শাহারা বেগমকে শারীরিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগও ওঠে। পরে সাইফুল ইসলাম বিদেশ থেকে দেশে ফিরলেও পারিবারিক বিরোধ চলতে থাকে।
এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার দুপুরে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে কলি খাতুন তার শাশুড়ির মাথায় বালতি দিয়ে সজোরে আঘাত করেন বলে অভিযোগ স্বজনদের। এতে শাহারা বেগম জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নাটোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তার মাথায় তিনটি সেলাই দেওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসার পর পরিবারের সদস্যরা তাকে বাড়িতে নিয়ে যান। রাতে আবার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, ঘটনার পর কলি খাতুন নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোনসহ কয়েক লাখ টাকার মালামাল নিয়ে পালিয়ে গেছেন। তার বাবার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায়।
নাটোর সদর থানার ওসি মনসুর রহমান জানান, ওই পরিবারে পারিবারিক বিষয় নিয়ে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ হতো। এ ঘটনায় পুলিশ লিখিত অভিযোগ পেয়েছে। অভিযুক্ত কলি খাতুন পলাতক রয়েছেন এবং তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।



