ফ্রান্সের স্ট্রাসবার্গে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট ভবনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি বিশাল সোনালি ভাস্কর্য প্রদর্শন করা হচ্ছে। ‘দ্য অরেঞ্জ প্লেগ’ নামের ব্যঙ্গাত্মক এ ভাস্কর্যে ট্রাম্পকে নগ্ন অবস্থায় একজন অপেক্ষাকৃত ছোট মানুষের কাঁধে বসে থাকতে দেখা যাচ্ছে।
ডেনমার্কের শিল্পী জেনস গালচিওটের তৈরি ভাস্কর্যটির উচ্চতা প্রায় ২ দশমিক ৬ মিটার বা সাড়ে ৮ ফুট। এটি ২৩ ক্যারেট সোনার পাত দিয়ে আবৃত। ভাস্কর্যে ট্রাম্পের এক হাতে বড় আকারের গলফ ক্লাব এবং অন্য হাতে ন্যায়বিচারের প্রতীক হিসেবে একটি পাল্লা রয়েছে। নিচে পৃথিবীর আকৃতির একটি গলফ বলও রাখা হয়েছে। ভাস্কর্যটি ‘কিং অব ইনজাস্টিস’ নামেও পরিচিত।
স্ট্রাসবার্গে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের দুটি ভবনের সংযোগস্থলের ব্যস্ত একটি অংশে ভাস্কর্যটি প্রদর্শন করা হয়েছে। এটি বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) পর্যন্ত সেখানে থাকার কথা। ডেনমার্কের ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য পার ক্লসেনের আমন্ত্রণে শিল্পী জেনস গালচিওট সেখানে এটি প্রদর্শন করছেন।
ভাস্কর্যের বেদিতে লেখা রয়েছে—‘আমি একজন মানুষের পিঠে চেপে বসেছি। আমার ভারে তিনি তলিয়ে যাচ্ছেন। তাঁকে সহায়তা করতে আমি সবকিছুই করব। শুধু তাঁর পিঠ থেকে নামব না।’ এই বক্তব্যের মাধ্যমে শিল্পী ক্ষমতার ভার ও তার প্রভাবের একটি ব্যঙ্গাত্মক প্রতীক তুলে ধরেছেন।
জেনস গালচিওট জানিয়েছেন, ভাস্কর্যটি ডোনাল্ড ট্রাম্পের জলবায়ু ও পররাষ্ট্রনীতির সমালোচনা হিসেবে তৈরি করা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, ট্রাম্প শাসনতান্ত্রিক বিশ্বব্যবস্থা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার জন্য বড় হুমকিগুলোর একটি। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা এবং এর ধ্বংসাত্মক প্রভাবের বিরুদ্ধে একসঙ্গে অবস্থান নেওয়া প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
শিল্পী জানান, ভাস্কর্যটি হ্যান্স ক্রিশ্চিয়ান অ্যান্ডারসনের বিখ্যাত রূপকথা ‘দ্য এম্পেররস নিউ ক্লথস’ বা ‘সম্রাটের নতুন পোশাক’ থেকে অনুপ্রাণিত। ওই গল্পে একজন দাম্ভিক শাসক নিজেকে মূল্যবান পোশাকে সজ্জিত মনে করলেও বাস্তবে তিনি ছিলেন নগ্ন। ভয় ও চাটুকারিতার কারণে কেউ তাকে সত্যটি জানায়নি; পরে একটি শিশু তার নগ্নতার বিষয়টি প্রকাশ করে দেয়। গালচিওটের ভাস্কর্যেও ক্ষমতা, ভয় ও চাটুকারিতার একই প্রতীকী ধারণা ব্যবহারের চেষ্টা করা হয়েছে।
ভাস্কর্যটির সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন নন বলে জানিয়েছেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ও ডেনমার্কের রাজনীতিক পার ক্লসেন। ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, কেউ যদি ইউরোপীয় পার্লামেন্টে এমন একটি ভাস্কর্য প্রদর্শন সহ্য করতে না পারেন, তাহলে বিশ্বমঞ্চে তার কোনো স্থান নেই।
ইউরোপীয় পার্লামেন্টে প্রদর্শনীর বিষয়ে হোয়াইট হাউসের কোনো প্রতিক্রিয়া এখনো পাওয়া যায়নি বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
এর আগে ভাস্কর্যটি ২০২৫ সালে ব্রাজিলের বেলেমে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের কপ৩০ জলবায়ু সম্মেলনে প্রদর্শন করা হয়েছিল। এ ছাড়া ২০২৬ সালে ডেনমার্কের ‘স্ট্যান্ড উইথ গ্রিনল্যান্ড’ বিক্ষোভ এবং জার্মানির মিউনিখে একটি নিরাপত্তা সম্মেলনের সময়ও এটি প্রদর্শিত হয়েছে।



