জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ট্রাকচালক মো. হোসেন হত্যা মামলায় আদালতে হাজির করার পর হাতকড়া ও সিঁড়ি দিয়ে ওঠানো নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ঢাকার চার নম্বর বিশেষ জজ আদালত-৪-এর বিচারক রবিউল আলমের আদালতে পলক এসব কথা বলেন।
আদালতে পলক বলেন, তাকে হাতকড়া পেছনে দিয়ে সিঁড়ি দিয়ে ওঠানো হয়েছে। মানবিক দিক বিবেচনা করে হাতকড়া সামনে পরানোর ব্যবস্থা করার জন্য আদালতের কাছে অনুরোধ জানান তিনি।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর উদ্দেশে পলক বলেন, যেহেতু ছয় তলা পর্যন্ত হেঁটে ওঠানো হয়েছে, তাই মানবিক দিক বিবেচনা করে তাদের হ্যান্ডকাফ সামনে পরানো উচিত।
আদালত থেকে নামার সময়ও লিফট নিয়ে প্রশ্ন তোলেন পলক। তিনি বলেন, ‘লিফট কি শুধু আমাদের জন্য বন্ধ?’
পলকের আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখি বলেন, আদালতে আনার সময় লিফট চালু থাকা সত্ত্বেও পলকসহ আসামিদের সিঁড়ি দিয়ে ওঠানো হয়েছে। দুটি লিফটের মধ্যে একটি চালু ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
আইনজীবী আরও বলেন, আসামিদের হাতে ঝং ধরা হ্যান্ডকাফ এবং পরনে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ছিল, যা খুবই নোংরা। এতে তারা অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন। বিষয়গুলো মানবিক দিক বিবেচনায় নেওয়া উচিত বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী বেলাল হোসেন জানান, এ মামলার দুই আসামি সাজ্জাদ হোসেন ও নাইমুল হাসান রাসেলের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শুনানি থাকায় তাদের আদালতে হাজির করতে পারেনি কারা কর্তৃপক্ষ। এ কারণে ঢাকার চার নম্বর বিশেষ জজ আদালত-৪-এর বিচারক রবিউল আলম নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, এদিন কারাগারে থাকা আট আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। মামলায় মোট ৩৪ জন আসামির মধ্যে ১০ জন কারাগারে আটক রয়েছেন এবং ২০ জন শুরু থেকেই পলাতক রয়েছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান এলাকায় গুলিতে নিহত হন ট্রাকচালক মো. হোসেন। ওই দিন গাবতলীতে ট্রাক রেখে বাসায় ফেরার পথে চাঁদ উদ্যান এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি।
এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট নিহতের মা রীনা বেগম বাদী হয়ে মোহাম্মদপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। পরে ২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক আকরামুজ্জামান শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন।
মামলার আসামিদের মধ্যে সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী রয়েছেন। বর্তমানে জুনাইদ আহমেদ পলক, সাদেক খান, ফুরকান হোসেন ও শাহজাহান খান কারাগারে আটক রয়েছেন।



