ফ্রান্সে বিক্ষোভ চলাকালে ১৫ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীর হাত উড়ে যাওয়ার পর স্কুল শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে স্টান গ্রেনেডের ব্যবহার স্থগিত করেছে সরকার। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেজ বুধবার (৭ অক্টোবর) এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন।
সোমবার (৫ অক্টোবর) উত্তর ফ্রান্সের লেঁস শহরে বিক্ষোভের সময় ওই শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, একটি পুলিশ গ্রেনেড বিস্ফোরণের ঘটনায় তার হাত উড়ে যায়। তবে গ্রেনেডটি শিক্ষার্থী নিজে হাতে তুলেছিল, নাকি পুলিশের ছোড়া গ্রেনেডের সরাসরি আঘাতে বিস্ফোরণ ঘটেছে—এ বিষয়ে তদন্ত চলছে।
ঘটনার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেজ জানিয়েছেন, তদন্তে ঘটনার প্রকৃত কারণ স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত স্কুল শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে স্টান গ্রেনেড ব্যবহার করা হবে না। পুলিশের এই অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়ে ইতোমধ্যে একাধিক তদন্তও শুরু হয়েছে।
ফ্রান্সজুড়ে গত দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ চলছে। অতিরিক্ত শিক্ষার্থী, শিক্ষক সংকট, জরাজীর্ণ স্কুল ভবন এবং শিক্ষাখাতে পর্যাপ্ত অর্থায়নের দাবিতে তারা আন্দোলন করছে। মঙ্গলবার দেশজুড়ে বড় ধরনের বিক্ষোভ হয় এবং কয়েকশ স্কুল আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ ছিল।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, অনেক শ্রেণিকক্ষে পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই এবং স্কুল ভবনগুলোর অবস্থা খারাপ। দীর্ঘ সময় ক্লাস, শিক্ষক সংকট ও শিক্ষা খাতে অর্থ কমানোর পরিকল্পনাও তাদের অন্যতম উদ্বেগ।
প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকুরন শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো নিয়ে ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রীদের নির্দেশ দিয়েছেন। সরকার শিক্ষক সংকট, স্কুলের অবকাঠামো ও শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছে।
এদিকে বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক আন্দোলনে শিক্ষার্থী, স্কুলকর্মী ও পুলিশ সদস্যদের মধ্যে অনেকে আহত হয়েছেন। পুলিশের আচরণ নিয়ে অভিযোগের পর দেশটির পুলিশের অভ্যন্তরীণ পরিদর্শন সংস্থাও একাধিক তদন্ত শুরু করেছে।



