কোনো চাপের মুখেই পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) লংমার্চ বন্ধ হবে না বলে মন্তব্য করেছেন দলটির নেতা শওকত ইউসুফজাই। তার দাবি, লংমার্চ শেষ করার চাবিকাঠি রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে বন্দি পিটিআই প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের হাতে।
বুধবার পাকিস্তানের গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন বলে জানিয়েছে জিও নিউজ উর্দু।
ইমরান খানের মুক্তি, তার সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ এবং দলটির নেতাকর্মীদের মুক্তিসহ বিভিন্ন দাবিতে পিটিআই লংমার্চ করছে। ৪ অক্টোবর খাইবার পাখতুনখোয়ার লাক্কি মারওয়াত থেকে এই কর্মসূচি শুরু হয়। এর আগে সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে আলোচনায় সমঝোতা না হওয়ায় লংমার্চ শুরু করে পিটিআই।
শওকত ইউসুফজাই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে বলেন, গণমাধ্যমে আলোচনা নিয়ে সময়ক্ষেপণ না করে পিটিআইয়ের দাবিগুলো মেনে নেওয়া উচিত।
তিনি ইমরান খানের সঙ্গে সাক্ষাতের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, তাকে হাসপাতালে স্থানান্তর এবং তার মামলাগুলোর শুনানির দাবি জানান। একই সঙ্গে ইমরান খানের বোনসহ কারাগারে থাকা সব নারীকে মুক্তির দাবিও করেন তিনি।
সোহাইল আফ্রিদিকে ঘিরে চলমান পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন শওকত ইউসুফজাই। তিনি বলেন, কারও রাজনৈতিক ম্যান্ডেট কেড়ে নিলে সন্ত্রাসবাদ নির্মূল হবে না। এ সমস্যা সমাধানে কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আলোচনায় বসতে হবে।
এদিকে পিটিআই চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার গওহর খান বলেন, সরকার শর্তসাপেক্ষে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে। তবে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনা কোনো পূর্বশর্ত ছাড়া হওয়া উচিত বলে মনে করে পিটিআই।
সরকার ও পিটিআইয়ের মধ্যে লংমার্চ ঠেকাতে হওয়া আলোচনা ৪ অক্টোবর ভোরে অচলাবস্থায় শেষ হয়। আলোচনায় ইমরান খানের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং খাইবার পাখতুনখোয়ায় সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্য দেখা দেয়।
এর পরই পিটিআই লাক্কি মারওয়াত থেকে ইসলামাবাদের উদ্দেশে লংমার্চ শুরু করে। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ৬ অক্টোবর আবারও আলোচনার প্রস্তাব দিয়ে লংমার্চ ও অবস্থান কর্মসূচি শেষ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
ব্যারিস্টার গওহর আরও বলেন, সরকারের কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে পিটিআইয়ের যোগাযোগ রয়েছে। আলোচনার মাধ্যমে চলমান রাজনৈতিক সংকটের সমাধান বের করার চেষ্টা চলছে।



