ময়মনসিংহের গৌরীপুরে আড়াই বছরের শিশু ওয়াসকুরুনি ইসলামকে বিষ খাইয়ে হত্যার অভিযোগে তার বাবা আব্দুল কাদির ও সৎ মা আকলিমাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শিশুটির মা শেফালী আক্তারের করা অভিযোগের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার বোকাইনগর ইউনিয়নের বীরপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
এর আগে একই দিন দুপুরে শেফালী আক্তার বাদী হয়ে থানায় অভিযোগ করেন। পুলিশ জানায়, অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে অভিযুক্ত দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ ও মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে শিশুটিকে ডিম খাওয়ানোর পর পানি পান করান তার সৎ মা আকলিমা। পরে শিশুটিকে গোসল করিয়ে ঘুম পাড়ানোর জন্য বিছানায় শুইয়ে দেন তিনি। একপর্যায়ে শিশুটি কাশি দিতে শুরু করলে শব্দ শুনে তার দাদি আছিয়া আক্তার ঘরে যান।
আছিয়া আক্তারের দাবি, ঘরে গিয়ে তিনি দেখেন, শিশুটির সৎ মা তাকে নিয়ে শুয়ে আছেন। পরে তিনি শিশুটিকে বাইরে নিয়ে আসেন এবং তার মুখ থেকে বিষের গন্ধ পান বলে জানান। এরপর শিশুটির চাচারা বিষয়টি তার বাবা আব্দুল কাদিরকে জানান। পরে শিশুটিকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
সেখানে শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
শিশুটির মা শেফালী আক্তার জানান, আব্দুল কাদিরের সঙ্গে তার ১৫ বছর আগে বিয়ে হয়েছিল। সংসারের অভাব দূর করতে তিনি বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনে সংসার গুছিয়েছিলেন। তাদের দুই ছেলে রয়েছে।
শেফালীর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় এক বছর আগে স্বামীর পরকীয়া ও দ্বিতীয় বিয়েকে কেন্দ্র করে তাদের দাম্পত্য জীবনে ভাঙন দেখা দেয়। স্বামীর ঋণ পরিশোধ করতে গিয়ে তিনি বাধ্য হয়ে ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় চাকরি নেন।
শেফালী অভিযোগ করেন, তার ছোট ছেলে ওয়াসকুরুনি ইসলামকে বিষ খাইয়ে হত্যা করেছেন আব্দুল কাদির ও তার বর্তমান স্ত্রী আকলিমা। তাকে না জানিয়েই শিশুটিকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল এবং পরে দাফনের চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি। শ্বশুরবাড়ির লোকজনের মাধ্যমে ছেলের মৃত্যুর খবর জানতে পারেন বলে জানান শেফালী। এ ঘটনায় তিনি সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।
শিশুটির দাদি আছিয়া আক্তারও ঘটনার দিন নাতির কাশির শব্দ শুনে ঘরে যাওয়ার কথা জানান। তার দাবি, শিশুটির মুখে বিষের গন্ধ পাওয়ার পর শিশুটির চাচারা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়।
এ বিষয়ে গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান বলেন, শিশুটির মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। তার মায়ের অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে অভিযুক্ত দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।



