বিশ্ববিদ্যালয়ে নবীন শিক্ষার্থীকে র্যাগিংয়ের ঘটনায় সাত শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার এবং দুজনকে অর্থদণ্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৭তম রিজেন্ট বোর্ডের সভায় তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন ও শৃঙ্খলা বোর্ডের সুপারিশের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও র্যাগিংয়ের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যসচিব ড. কামরুজ্জামান খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বলে জানা গেছে।
সূত্র জানায়, গত ২১ জুলাই ফার্মেসি বিভাগের নবীন শিক্ষার্থীদের র্যাগিংয়ের সময় ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মুশফিকুর রহমান তুহিন অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাঁকে জরুরি অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ফার্মেসি বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. নাজমুস সাকিবকে দুই বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। একই বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের জাহিদ হোসেন সরকার এবং ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের মিসকাত জাহান মুসফিক, ইউনুস হোসেন হিরাত, সাইদুর রহমান সিফাত ও সানোয়ার হোসেন তানিমকে এক বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ইসতিয়াক আহমেদ ইফতিকেও এক বছরের জন্য বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, ফার্মেসি বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তামান্না তাজমিম তন্নীকে ১০ হাজার টাকা এবং সোহানুর রহমান সিফাতকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
সভায় শাস্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সাত কর্মদিবসের মধ্যে বাবা-মাসহ কর্তৃপক্ষের কাছে মুচলেকা জমা দেওয়ার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বিজন কুমার ব্রহ্ম জানিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ-সংক্রান্ত সংবাদ দেখলেও তাঁর কাছে এখনো এ বিষয়ে কোনো কাগজপত্র পৌঁছায়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহা. শামীমের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। পরে খুদেবার্তায় তিনি সভায় ব্যস্ত থাকার কথা জানান।
প্রসঙ্গত, গত ২১ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে নবীন শিক্ষার্থীদের র্যাগিংয়ের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, বাংলা ক্লিনিক এলাকার একটি মেসে নবীন শিক্ষার্থীদের ডেকে নিয়ে র্যাগিং করেন জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে মানসিক চাপে মুশফিকুর রহমান তুহিন অসুস্থ হয়ে পড়েন। রাত ৮টার দিকে তাঁকে পাবনা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর রাত ১১টার দিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।



