যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় এক নারীর ফোন নম্বর চাওয়াকে কেন্দ্র করে উবার ইটসের এক ডেলিভারি চালককে গুলি ও বন্দুক দিয়ে আঘাত করার অভিযোগে ৩৩ বছর বয়সী খুসলেন সারুলতুয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা, প্রাণঘাতী অস্ত্র দিয়ে গুরুতর হামলা এবং মাদক পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে।
স্থানীয় সময় সোমবার (১২ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৩টার দিকে মায়ামি-ডেড কাউন্টির পার্ল ডেডল্যান্ড অ্যাপার্টমেন্টে গোলাগুলির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সেখানে এক ব্যক্তি পুলিশকে জানান, সংঘর্ষে জড়িত একটি দল কিছুক্ষণ আগেই ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে গেছে। একই সময়ে গুলিবিদ্ধ এক ব্যক্তি ব্যাপটিস্ট হেলথ সাউথ মায়ামি হাসপাতালে পৌঁছান।
পুলিশের কাছে দেওয়া বক্তব্যে আহত ডেলিভারি চালক জানান, ঘটনার প্রায় এক ঘণ্টা আগে তিনি ওই অ্যাপার্টমেন্টে এক নারীর কাছে খাবার পৌঁছে দিয়েছিলেন। সে সময় ওই নারীর সঙ্গে তার সংক্ষিপ্ত কথাবার্তা হয়। পরে ওই নারীর প্রতি আগ্রহ তৈরি হওয়ায় রাত ৩টা ২৫ মিনিটের দিকে আবার সেখানে যান তিনি। উদ্দেশ্য ছিল, ওই নারীর সঙ্গে দেখা করে তার ফোন নম্বর চাওয়া।
তবে নারী ফোন নম্বর দিতে অস্বীকৃতি জানান। এরপর চালক নিজের গাড়ির দিকে ফিরে যাচ্ছিলেন। এ সময় একটি করভেট গাড়ি নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন সারুলতুয়া।
অভিযোগ অনুযায়ী, সারুলতুয়া বন্দুকের মুখে চালককে মাটিতে শুয়ে পড়ার নির্দেশ দেন। এরপর গুলি ছুড়লে তা চালকের ডান নিতম্ব ছুঁয়ে যায়। পরে বন্দুক দিয়ে তার মাথার পেছনে আঘাত করেন অভিযুক্ত। এতে চালকের মাথায় প্রায় দুই ইঞ্চি লম্বা ক্ষত তৈরি হয়।
পুলিশের অভিযোগের বিবরণে বলা হয়েছে, এরপর চালককে দাঁড়াতে নির্দেশ দিয়ে তার মাথায় বন্দুক তাক করেন সারুলতুয়া। এ সময় তিনি বলেন, ‘আমি তোমাকে মেরে ফেলব।’ অভিযুক্তের প্রেমিকা তাকে থামানোর জন্য চিৎকার করেন এবং আটকে রাখার চেষ্টা করেন। তবে সারুলতুয়া গাড়ির চারপাশে চালককে ধাওয়া করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশ করভেট গাড়িটির নম্বরপ্লেটের সূত্র ধরে সারুলতুয়াকে শনাক্ত করে। পরে আহত চালক ছবির মাধ্যমে তাকে শনাক্ত করেন। এরপর অ্যাপার্টমেন্ট থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের পর তল্লাশি চালিয়ে বিভিন্ন ধরনের মাদক ও ওষুধ উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ। উদ্ধার করা সামগ্রীর মধ্যে ছিল কেটামিন, কোকেন, এমডিএমএ, সাইলোসাইবিন মাশরুম, গাঁজা, অ্যাডেরল, অক্সিকোডোন, অ্যামফেটামিন, জ্যানাক্স, ১৬টি সিয়ালিস বড়ি এবং ‘পিংক কোকেন’ নামে পরিচিত মাদকের দুটি প্যাকেট।
আদালতে হাজির করা হলে সারুলতুয়া দাবি করেন, উদ্ধার হওয়া সামগ্রীগুলোর মধ্যে থাকা ওষুধগুলো তার চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী পাওয়া গেছে। বর্তমানে তাকে মায়ামি-ডেড কাউন্টির টার্নার গিলফোর্ড নাইট সংশোধনাগারে জামিন ছাড়াই আটক রাখা হয়েছে।
এদিকে, উবার জানিয়েছে, ঘটনাটি নিয়ে ওঠা অভিযোগ উদ্বেগজনক এবং তারা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে।



