বান্দরবানে এক মারমা তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জেলা আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক শৈক্যচিং মার্মাকে দলীয় পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগের বিষয়ে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিয়ে দুই কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা জমা দিতে তাকে নোটিশ দিয়েছে দলটির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) এনসিপির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির পক্ষ থেকে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। দলের দপ্তর সেলের সদস্য সাদিয়া ফারজানা দিনার স্বাক্ষরিত নোটিশে বলা হয়েছে, গুরুতর সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেনের নির্দেশক্রমে শৈক্যচিং মার্মাকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
নোটিশে আরও বলা হয়েছে, নোটিশ পাওয়ার দুই কার্যদিবসের মধ্যে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণসহ লিখিত ব্যাখ্যা ও আত্মপক্ষ সমর্থন জমা দিতে হবে। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমের কাছে লিখিত জবাব পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সিদ্ধান্তটি অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়।
এ বিষয়ে বান্দরবান জেলা এনসিপির আহ্বায়ক মং সা প্রু চৌধুরী জানান, শৈক্যচিং মার্মাকে কেন্দ্র থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে তার লিখিত ব্যাখ্যা ও আত্মপক্ষ সমর্থন পর্যালোচনার পর পরবর্তী সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে দলীয় সূত্রে জানানো হয়েছে।
এর আগে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) এক মারমা তরুণীর দায়ের করা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে শৈক্যচিং মার্মাকে তার বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে বান্দরবান সদর থানা পুলিশ। পরে তাকে থানায় নেওয়া হয়।
এর আগে ভুক্তভোগী তরুণীর একটি ভিডিও বার্তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় আলোচনা শুরু হয়। ওই ভিডিওতে তরুণী অভিযোগ করেন, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে শৈক্যচিং মার্মা তার সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান। পরে তাকে বান্দরবানের সাইনি রিসোর্টে নিয়ে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তরুণীর দাবি, রিসোর্টের ভেতর থেকে চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন সেখানে জড়ো হন। পরে বিষয়টি প্রশাসন ও গণমাধ্যমকর্মীদের জানানো হয় বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
অন্যদিকে, শৈক্যচিং মার্মা তার বিরুদ্ধে ওঠা ধর্ষণের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, অভিযোগগুলো মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। অভিযোগের সত্যতা তদন্ত এবং আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।



