অল ক্রাইমস.টিভি ডেস্ক
এই মাসের শুরুতে বাহরাইনের একটি পানি শোধনাগারে ড্রোন হামলার পর উপসাগরীয় দেশগুলোতে পানি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। অঞ্চলটির বেশিরভাগ দেশ পানীয় জলের জন্য ডিস্যালিনেশন বা লবণমুক্তকরণ প্রযুক্তির উপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।
মুডিজের এক প্রতিবেদনে এই নির্ভরতাকে ‘গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ঝুঁকি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। জিসিসি দেশগুলোর বেশিরভাগ পানীয় জলই আসে ডিস্যালিনেশন থেকে। কুয়েতে প্রায় ৯০ শতাংশ, আর সৌদি আরব ও ওমানও এই প্রযুক্তির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।
উপকূলীয় এলাকায় কেন্দ্রীভূত প্ল্যান্টগুলো দক্ষতা বাড়ালেও ঝুঁকি তৈরি করেছে, কারণ বিকল্প ব্যবস্থা খুবই সীমিত। সাম্প্রতিক হামলা দেখিয়েছে, এসব অবকাঠামো সহজেই লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনেক দেশে মাত্র এক সপ্তাহের পানির মজুদ রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি বিঘ্ন হলে পরিবার, হাসপাতাল ও শিল্প খাত দ্রুত সংকটে পড়বে।
পানি ও বিদ্যুতের পারস্পরিক নির্ভরতার কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল। পানি উৎপাদনে বিদ্যুৎ লাগে, আবার বিদ্যুৎ ও শিল্প চালাতে প্রয়োজন পানি—ফলে একটির সমস্যা অন্যটিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
মুডিজের মতে, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারের আর্থিক সক্ষমতা তুলনামূলক শক্তিশালী হলেও বাহরাইনের মতো দেশগুলো বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।
সব মিলিয়ে, উপসাগরীয় অঞ্চলে পানি এখন শুধু সরবরাহের বিষয় নয়; এটি অর্থনীতি ও জনসেবার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হয়ে উঠেছে। যেকোনো বিঘ্ন পুরো অঞ্চলে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।



