অল ক্রাইমস. টিভি ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান রণক্ষেত্রে উত্তেজনা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। এ প্রেক্ষাপটে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, তারা এবার সরাসরি ইসরায়েলি সামরিক শক্তির কেন্দ্রবিন্দুতে আঘাত হেনেছে। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) রাত ১টা ১০ মিনিটের দিকে তেল আবিবের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রধান সদর দপ্তর ‘কিরিয়া’ লক্ষ্য করে একাধিক বিশেষ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
হিজবুল্লাহ তাদের আনুষ্ঠানিক বার্তায় আরও দাবি করে, শুধু সেনাসদরই নয়, তেল আবিবের উত্তরে অবস্থিত ইসরায়েলের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাকেও নিশানা করে সুনির্দিষ্ট হামলা চালানো হয়েছে। উল্লেখ্য, ‘কিরিয়া’ এলাকা ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা কাঠামোর অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এখানে সামরিক নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর এবং নীতিনির্ধারণী কার্যক্রম পরিচালিত হয়, ফলে এ স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলার দাবি স্বাভাবিকভাবেই নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
এদিকে আকাশপথে পাল্টাপাল্টি হামলার পাশাপাশি দক্ষিণ লেবাননের স্থলভাগেও সংঘর্ষ ক্রমেই ভয়াবহ হয়ে উঠছে। হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, লেবাননের অভ্যন্তরে অনুপ্রবেশকারী ইসরায়েলি স্থলবাহিনীর সঙ্গে তাদের যোদ্ধাদের তীব্র লড়াই চলছে। তাদের দাবি, গোপন কৌশল ও সম্মুখ আক্রমণের সমন্বয়ে ইসরায়েলি বাহিনীকে চাপে রাখা সম্ভব হয়েছে।
অন্যদিকে, ইসরায়েলি সামরিক কর্তৃপক্ষ দক্ষিণ লেবাননে তাদের একজন সেনা সদস্য গুরুতর আহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে দাবি করা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিষয়ে এখনো তেল আবিবের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি, যা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান এবং ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই হিজবুল্লাহ তাদের হামলার তীব্রতা বাড়িয়ে দিয়েছে। সাম্প্রতিক এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি তেল আবিবের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, সেনাসদর কিংবা গোয়েন্দা স্থাপনায় এই ধরনের আঘাত যুদ্ধের গতিপ্রকৃতিকে আরও জটিল ও অনিশ্চিত করে তুলতে পারে, যা পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে দীর্ঘমেয়াদে প্রভাবিত করার আশঙ্কা তৈরি করছে।



