পরীক্ষামূলক সংস্করণ

২৫ মার্চের অন্ধকারে আলো জ্বালেন জিয়াউর রহমান: ফখরুল

অল ক্রাইমস. টিভি ডেস্ক

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার তেলিয়াপাড়া চা বাগানে ‘তেলিয়াপাড়া দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তব্য দিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ২৫ মার্চ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আকস্মিক হামলায় বাঙালি জাতি যখন দিশেহারা হয়ে পড়ে, তখন জিয়াউর রহমান-এর কণ্ঠ জাতিকে উজ্জীবিত করে এবং মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে সহায়তা করে।

তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ কোনো একক ব্যক্তির নির্দেশে সংঘটিত হয়নি; বরং এটি ছিল সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। তেলিয়াপাড়া চা বাগানে এম এ জি ওসমানী-এর নেতৃত্বে এবং জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে সেক্টর কমান্ডাররা একত্র হয়ে যুদ্ধের কৌশল নির্ধারণ করেন। ১৯৭১ সালের ৪ এপ্রিল অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে দেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যা স্বাধীনতা সংগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত।

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তুলতে জিয়াউর রহমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তাঁর ঘোষণার পর সেনাবাহিনী ও সাধারণ মানুষ যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে।

তিনি দাবি করেন, সে সময় শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানে বন্দি ছিলেন, আর জিয়াউর রহমান পরিবার রেখে যুদ্ধে যোগ দেন। এছাড়া খালেদা জিয়া মুক্তিযুদ্ধের সময় নানা ঝুঁকির সম্মুখীন হন এবং পরবর্তীতে পাকবাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

রাজনৈতিক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বিএনপি সংস্কার চায় না”—এমন প্রচারণা সঠিক নয়। তাঁর মতে, ১৯৭৫ সালের একদলীয় শাসনব্যবস্থা থেকে বহুদলীয় রাজনীতির সূচনা করেন জিয়াউর রহমান। পরবর্তীতে খালেদা জিয়া রাষ্ট্রপতি শাসনব্যবস্থা থেকে সংসদীয় পদ্ধতি এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা চালু করেন। ২০২২ সালে ঘোষিত বিএনপির ৩১ দফা কর্মসূচিতে বর্তমান সংস্কারের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক এম এ জি ওসমানীর নাম অতীতে যথাযথভাবে উচ্চারিত হয়নি এবং তেলিয়াপাড়ার বৈঠকের গুরুত্বও অনেক সময় উপেক্ষিত হয়েছে।

অনুষ্ঠান শেষে তেলিয়াপাড়া চা বাগানের স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন মন্ত্রী, সংসদ সদস্যসহ অন্যান্য অতিথিরা। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমদ আযম খান, প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, জাতীয় সংসদের হুইপ জি কে গউছ, সংসদ সদস্য এস এম ফয়সল, ডা. শাখাওয়াত হাসান জীবন এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম প্রমুখ। সভাপতিত্ব করেন জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডের আহ্বায়ক গোলাম মোস্তফা রফিক।

উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের ৪ এপ্রিল তেলিয়াপাড়ায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বাঙালি কর্মকর্তারা এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হন। সেখানে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য দেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করার প্রাথমিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। স্বাধীনতার পর থেকে দিনটি স্থানীয়ভাবে ‘তেলিয়াপাড়া দিবস’ হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

প্রধান খবর

গুলিতে নিহত যুবদল কর্মী/ কাউন্সিলর প্রার্থী হওয়ার প্রত্যাশাতেই হত্যার নীল নকশার অভিযোগ

গত শুক্রবার ২৪ জুলাই রাজধানীর মিরপুরের কাফরুল এলাকায় গুলি করে যুবদলের কর্মী ইউসুফকে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার পরবর্তী এক সংবাদ সন্মেলনে পুলিশের পক্ষ থেকে এলাকা আধিপত্য ও

আসছে...