পরীক্ষামূলক সংস্করণ

হামের প্রকোপ বৃদ্ধি: ১৫ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল ৯৮ জন প্রাণ হারালেন

 

দেশে বায়ুবাহিত রোগ হামের প্রকোপ ক্রমেই উদ্বেগজনক আকার ধারণ করছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে সারাদেশে আরও চারজন মারা গেছেন। একই সময়ে নতুন করে ৭৮৭ জনের শরীরে এই রোগের উপসর্গ পাওয়া গেছে। শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেলে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত দেশে মোট সন্দেহভাজন হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ছয় হাজার চারশি ছাপ্পান্ন। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে ৬০ জনের শরীরে। সব মিলিয়ে ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে আটশি ছাব্বিশ।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া চারজনসহ, ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত মোট ৯৮ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী প্রাণ হারিয়েছেন। এর মধ্যে ১৬ জন নিশ্চিতভাবে হাম রোগে আক্রান্ত ছিলেন। হাসপাতালে রোগী ভর্তির তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা গেছে, ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত মোট চার হাজার ছয়শি আটচল্লিশ জন নতুন হাম রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে দুই হাজার ছয়শি পঞ্চাশচার জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

অঞ্চলভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি দুই হাজার পঁইচল্লিশ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। রাজশাহী বিভাগে এক হাজার ছয়ষট্টি জন, চট্টগ্রাম বিভাগে পাঁচশি জন, খুলনা বিভাগে চারশি আটষট্টি জন, বরিশাল বিভাগে দুইশি ছিয়াশি জন এবং সিলেট বিভাগে একশি পঁচাত্তর জন ভর্তি হয়েছেন। ময়মনসিংহ ও রংপুরে যথাক্রমে ছেচল্লিশ এবং বাহাত্তর জন রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক বায়ুবাহিত রোগ। এর সংক্রমণ রোধে শিশুদের সময়মতো টিকা দেওয়া এবং উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করেছে এবং দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কেন্দ্রকে রোগের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে নির্দেশ দিয়েছে।

সরকারি সূত্র জানায়, আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা ও ভর্তির চাপও বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের ক্ষেত্রে হাম মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই নাগরিকদের বাড়িতে, স্কুলে এবং জনসমাগমে সাবধানতা অবলম্বন করা জরুরি। বাড়িতে সংক্রমণ রোধে নিয়মিত হাত ধোয়া, নাক-মুখ ঢেকে রাখা, আক্রান্ত ব্যক্তিকে আলাদা রাখা এবং চিকিৎসা নেয়ার পাশাপাশি শিশুদের টিকাদান কার্যক্রমে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

হাম রোগে আক্রান্তদের দ্রুত চিকিৎসা না নিলে জটিলতা বা মৃত্যু হতে পারে। তাই স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এই সংক্রমণ মোকাবেলায় কাজ করছে এবং আশা করা যাচ্ছে জনগণ সচেতন হলে সংক্রমণের হার কমানো সম্ভব।

প্রধান খবর

গুলিতে নিহত যুবদল কর্মী/ কাউন্সিলর প্রার্থী হওয়ার প্রত্যাশাতেই হত্যার নীল নকশার অভিযোগ

গত শুক্রবার ২৪ জুলাই রাজধানীর মিরপুরের কাফরুল এলাকায় গুলি করে যুবদলের কর্মী ইউসুফকে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার পরবর্তী এক সংবাদ সন্মেলনে পুলিশের পক্ষ থেকে এলাকা আধিপত্য ও

চট্টগ্রাম নগরের আলোচিত ও শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন গ্রেপ্তার

মুনতাসীর মামুন : চট্টগ্রাম নগরের আলোচিত ও শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ বুধবার (২৯ জুলাই) যশোরের ঝিকরগাছা সীমান্ত এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ইমনের গ্রেপ্তারের বিষয়টি

কমলাপুর রেলস্টেশনে নিয়মিত যৌথ অভিযান চালাবে র‍্যাব ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ

মুনতাসীর মামুন : টিকিট কালোবাজারি, মাদক ও চোরাচালান বন্ধে টাউনহল সভায় সিদ্ধান্ত রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশন ও আশপাশের এলাকায় টিকিট কালোবাজারি, মাদক ও চোরাচালানসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে নিয়মিত যৌথ অভিযান চালাবে

আসছে...