ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে লিজের জমি না ছাড়াকে কেন্দ্র করে দুই পান চাষির বরজে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রায় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত তপন গুহ ও আকরাম শেখ।
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত আতিয়ার রহমান আতু শেখ (৬০) ও তার ছেলে সুজন শেখ (৩০) পলাতক রয়েছেন। ঘটনা ঘটেছে ৩০ মার্চ, উপজেলার পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের ডহরনগর গ্রাম।
রবিবার (৫ এপ্রিল) তপন গুহ ও আকরাম শেখ ফরিদপুর আদালতে মামলা করেছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে ডহরনগর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে লিজ নেওয়া জমিতে তারা পান চাষ করে আসছিলেন। একই এলাকার আতু শেখ বারবার জমি ছাড়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করছিলেন। লিজ বাতিল না করায় ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি পরিকল্পিতভাবে বরজে আগুন দিয়েছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বিস্তীর্ণ পানের বরজ সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আগুনে পুড়ে যাওয়া বাঁশের খুঁটি, শুকিয়ে যাওয়া পানগাছ এবং ছাইয়ের স্তূপ পুরো বরজকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে। স্থানীয়রা জানায়, এটি এলাকার অন্যতম বড় বরজ, যেখানে নিয়মিত ১০-১২ জন শ্রমিক কাজ করতেন।
ঘটনার দিন, ৩০ মার্চ দুপুরে হঠাৎ আগুন লেগে পুরো বরজে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষতিগ্রস্তরা দাবি করেন, এটি কোনো দুর্ঘটনা নয়, বরং পূর্বশত্রুতার জের ধরে পরিকল্পিত অগ্নিসংযোগ। আগুনে পুরো বরজ পুড়ে যাওয়ায় তাদের জীবিকার প্রধান উৎস নষ্ট হয়ে গেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত তপন গুহ বলেন, “এই বরজটাই ছিল আমার একমাত্র সম্বল। এখন পান ভাঙার মৌসুম চলছে, সবকিছু পুড়ে শেষ হয়ে গেছে। আমি একেবারে নিঃস্ব হয়ে গেছি। শুধু আমি না, সঙ্গে কাজ করা শ্রমিকরাও বিপদে পড়েছে।”
আকরাম শেখ বলেন, “আমাদের দুই পরিবারের ১০০ শতাংশ বরজ পুড়ে গেছে। কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে। এখন পরিবার নিয়ে কিভাবে চলব, তা বুঝতে পারছি না। আমরা অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”
স্থানীয় বাসিন্দা হানিফ শেখসহ একাধিক ব্যক্তি জানান, আগুন দেওয়ার ঘটনা শুধু দুই পরিবারের ক্ষতি নয়, পুরো এলাকার কৃষি অর্থনীতির ওপর বড় প্রভাব ফেলেছে। আগুন দেওয়ার পর আপস-মীমাংসার আলোচনা হলেও অভিযুক্তরা এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে।
বোয়ালমারী থানার ডহরনগর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মধুসূদন পান্ডে বলেন, “অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি সত্য বলে প্রতীয়মান হয়েছে। অভিযুক্তরা পলাতক, তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।”



