অল ক্রাইমস. টিভি ডেস্ক
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে লিটন নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। রবিবার (৫ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের রতনপুর এলাকায় এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
নিহত লিটন রংপুর জেলার মৃত শহিদুল ইসলামের ছেলে। তিনি সোনারগাঁ উপজেলার বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের হামছাদী এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করতেন। জীবিকার তাগিদে তিনি সাইনবোর্ড এলাকায় একটি গাড়ির শোরুমে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লিটনের সঙ্গে স্থানীয় একটি গ্রুপের দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব ছিল। বিশেষ করে ‘সাকিব গ্রুপ’ নামে পরিচিত একটি পক্ষের সঙ্গে তার বিরোধ চলছিল। ঘটনার আগের দিন শনিবারও ওই গ্রুপের সঙ্গে লিটনের ঝগড়া হয় বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। এ ঘটনার জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যার আশঙ্কা করছেন অনেকে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রবিবার রাতে লিটন পিরোজপুর ইউনিয়নের রতনপুর এলাকায় গেলে আগে থেকে ওত পেতে থাকা সন্ত্রাসীরা তার ওপর হামলা চালায়। তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের শ্বশুর আব্দুর রউফ বলেন, ‘আমার মেয়ের জামাইকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। কারা করেছে তা আমরা নিশ্চিত নই, তবে তার সঙ্গে যাদের দ্বন্দ্ব ছিল তারাই এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে বলে আমাদের ধারণা। আমরা দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।’
এদিকে, সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মহিববুল্লাহ জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে জমিসংক্রান্ত বিষয় ও পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের একাধিক দল ইতোমধ্যে অভিযান শুরু করেছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।
ঘটনার পর থেকে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।



