অল ক্রাইমস. টিভি ডেস্ক
বগুড়া-৬ (সদর) আসনের উপনির্বাচনে ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার আগেই ফলাফল বিবরণীতে প্রার্থীর এজেন্টদের স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার সকালে শহরের মালতীনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগের পর ওই ফলাফল বিবরণী ছিঁড়ে ফেলা হয়।
জানা গেছে, সকাল পৌনে ১০টার দিকে ৩৬ নম্বর মালতীনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার মো. নুরুল ইসলাম ভোট শুরুর সময়েই ফলাফল বিবরণীতে এজেন্টদের স্বাক্ষর নিতে শুরু করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর নেতাকর্মীরা সেখানে গিয়ে প্রতিবাদ জানান।
পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাসওয়ার তানজামুল হক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তার উপস্থিতিতে স্বাক্ষর নেওয়া ওই বিতর্কিত ফলাফল বিবরণী ছিঁড়ে ফেলা হয় এবং নতুন করে আরেকটি বিবরণী প্রস্তুত করা হয়। বর্তমানে ওই কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ চলছে বলে জানা গেছে।
এদিকে রিটার্নিং কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একটি বিশেষ দলকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল। বেলা সাড়ে ১১টায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, শুধু মালতীনগর নয়, সিটি স্কুল কেন্দ্রেও আগেভাগে ব্যালট পত্রে স্বাক্ষর করা হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. ফজলুল করিম একটি বিশেষ দলের প্রতি পক্ষপাত দেখাচ্ছেন এবং তাদের সুবিধা দিচ্ছেন। একটি দলকে জেতানোর জন্য প্রশাসনকে ব্যবহারের চেষ্টা চলছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে তিনি বলেন, পুলিশ ও জেলা প্রশাসন নিরপেক্ষ থাকলেও রিটার্নিং কর্মকর্তার কিছু কর্মকাণ্ড প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। কোনো ধরনের কারচুপি বা প্রভাবিত নির্বাচন মেনে নেওয়া হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে ইতিমধ্যে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন-এ লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
ভোটের পরিবেশ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, বিভিন্ন স্থানে তার কর্মী-সমর্থকদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে এবং ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। কিছু কেন্দ্র দখলের চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তবে সব প্রতিকূলতার মধ্যেও নির্বাচনে থাকার ঘোষণা দেন তিনি।
অন্যদিকে রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. ফজলুল করিম এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করতে কমিশন বদ্ধপরিকর। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তিনি ভিত্তিহীন বলে মন্তব্য করেন।



