অল ক্রাইমস. টিভি ডেস্ক
বাংলাদেশে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতা হারানোর পর অস্তিত্ব সংকটে পড়া আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে এখন তীব্র হতাশা ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। মাঠপর্যায়ের নেতাদের মতে, বিদেশে নিরাপদ অবস্থান থেকে দল পরিচালনা করা দীর্ঘ মেয়াদে কার্যকর নয়। তাদের দাবি, দলকে টিকিয়ে রাখতে হলে শীর্ষ নেতাদের ঝুঁকি নিয়েই দেশে ফিরে আসা প্রয়োজন।
তৃণমূলের অনেকের মধ্যে ধারণা ছিল যে নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি সরকার গঠন করলে রাজনৈতিক পরিবেশ কিছুটা শিথিল হবে এবং তারা আবারও এলাকায় ফিরে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালাতে পারবেন। তবে বাস্তবে সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি বলে জানিয়েছেন অনেকে।
একজন উপজেলা পর্যায়ের আওয়ামী লীগ নেতা জানান, তারা ভেবেছিলেন নতুন পরিস্থিতিতে দলীয় কার্যক্রমে কিছুটা স্বাভাবিকতা আসবে, কিন্তু এখন পরিস্থিতি আগের মতোই কঠিন রয়ে গেছে।
তৃণমূলের নেতাদের মতে, নির্বাচনের আগে বিএনপির নেতাদের কিছু বক্তব্য এবং রাজনৈতিক পরিবেশ নিয়ে তৈরি হওয়া ধারণা থেকেই তারা আশা করেছিলেন পরিস্থিতি বদলাবে। তবে নির্বাচন-পরবর্তী বাস্তবতায় সেই প্রত্যাশা ভেঙে গেছে।
নির্বাচনের পর কিছু এলাকায় দলীয় কার্যালয় খুলতে চেষ্টা করা হলেও তা বাধার মুখে পড়ে। এরপর থেকে অনেক কার্যালয় বন্ধ বা পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। নেতাকর্মীরা বর্তমানে আত্মগোপনে থেকে যোগাযোগ বজায় রাখার চেষ্টা করছেন।
তৃণমূল পর্যায়ের অনেক নেতা জানান, ব্যক্তিগতভাবে এলাকায় চলাফেরা কিছুটা স্বাভাবিক হলেও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড করতে গেলে বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে। যাদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে বা যারা পদধারী নেতা, তাদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন।
তৃণমূলের একাংশ মনে করে, কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব মাঠে না থাকলে সংগঠন পুনর্গঠন করা সম্ভব নয়। তাদের দাবি, নেতৃত্বকে সামনে এসে দায়িত্ব নিতে হবে, এমনকি ঝুঁকি থাকলেও।
তবে কেন্দ্রীয় পর্যায়ের এক নেতা জানিয়েছেন, দল উপযুক্ত সময়ের অপেক্ষায় আছে এবং দেশের ভেতর থেকেই সাংগঠনিক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দলীয় কার্যক্রম নিয়ে নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে দলটির ওপর চাপ ও আইনি জটিলতা অব্যাহত রয়েছে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের অনুপস্থিতি এবং মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমে বাধা—এই দুই কারণে দলটি বড় ধরনের সংকটে পড়েছে।
সব মিলিয়ে তৃণমূলের হতাশা বাড়লেও দ্রুত সমাধানের কোনো স্পষ্ট পথ এখনো দেখা যাচ্ছে না, ফলে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায় রয়ে গেছে।



