পহেলা বৈশাখ ভোরবেলায় রাজধানীর রমনা বটমূলে ছায়ানটের অনুষ্ঠান বর্ষবরণ উৎসবের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এটিও আমাদের এক ঐতিহ্য হয়ে উঠেছে। এবারও বটমূলে ছায়ানটের অনুষ্ঠান ছাড়াও বেশকিছু সংগঠনের উদ্যোগে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বর্ষবরণের নানা উৎসব-আয়োজন করা হবে। আজকাল কিছু বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানও এগিয়ে আসছে এ ধরনের অনুষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষকতায়। এবারও পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানগুলোয় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম হয়ে থাকে, এটা প্রমাণ করে আমরা আমাদের ঐতিহ্যের প্রতি যত্নশীল। তবে বন্ধ হয়নি অপশক্তির তৎপরতা। আমরা সব ধরনের অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করে একটি গণতান্ত্রিক, শুদ্ধ সমাজ গড়ে তুলতে চাই।
বাংলা নববর্ষের হাত ধরে প্রায় একই সময়ে উদযাপিত হয় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বৈসাবি, বিজু ইত্যাদি উৎসব। চৈত্রসংক্রান্তি ও পহেলা বৈশাখের নানা আয়োজন চলে বিভিন্ন পাহাড়ি গোষ্ঠীর মধ্যে। উপমহাদেশের অন্যান্য জাতির নববর্ষও আসে প্রায় অভিন্ন সময়ে। নিজেদের বর্ষবরণ উৎসবে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি আমরা যদি অন্যদের এ ধরনের উৎসবের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হই এবং তাতে অংশ নিই, তাহলে তা শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় রাখতে পারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।
বাংলা সনের প্রবর্তন হয় খাজনা আদায়ের সুবিধার্থে। নববর্ষে বিশেষত গ্রামাঞ্চলে দোকানে দোকানে হালখাতা খোলার রীতি আজও প্রচলিত। বৈশাখী মেলাকে কেন্দ্র করে গ্রামীণ অর্থনীতিতে একধরনের প্রাণসঞ্চার হয় প্রতিবছর। হস্তশিল্পের প্রসারে এর ভূমিকা অনস্বীকার্য। শহরাঞ্চলে বুটিক ও ফ্যাশন শিল্পে বিনিয়োগ বাড়ার বিষয়টিও উৎসাহব্যঞ্জক। ক্ষুদ্র ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখছে এ শিল্প। এসব কর্মকাণ্ড আমাদের সংস্কৃতিতে যুক্ত করছে নতুন মাত্রা।
আজ পহেলা বৈশাখ আপন শিল্প-সংস্কৃতির ধারাকে ঋদ্ধ ও বেগবান করার শপথ নেওয়ার দিন। নতুন বছর দেশবাসীর জন্য শান্তি ও সমৃদ্ধির বার্তা বয়ে আনবে, এটাই প্রত্যাশা। শুভ নববর্ষ।



