অল ক্রাইমস.টিভি ডেস্ক
পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল বিশ্বের সবচেয়ে সমৃদ্ধ তেল ও গ্যাসভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত। ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়ায় গঠিত এই অঞ্চলটি আজ বৈশ্বিক জ্বালানি ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এখানে ৩০টিরও বেশি ‘সুপারজায়ান্ট’ তেলক্ষেত্র রয়েছে, যেগুলোর প্রতিটিতে অন্তত ৫ বিলিয়ন ব্যারেল তেলের মজুত আছে। এই অঞ্চলের দৈনিক উৎপাদন বিশ্বের অন্যান্য বড় তেল অঞ্চলের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি।
ভূতাত্ত্বিকভাবে আরবীয় ও ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেটের সংঘর্ষে সৃষ্টি হওয়া জটিল গঠন, জাগরোস পর্বতমালা এবং বিশাল অববাহিকা—এ অঞ্চলে তেল ও গ্যাস সৃষ্টির আদর্শ পরিবেশ তৈরি করেছে। সামুদ্রিক জীব থেকে উৎপন্ন জৈব পদার্থ কোটি কোটি বছরের তাপ ও চাপে রূপান্তরিত হয়ে হাইড্রোকার্বনে পরিণত হয়েছে।
বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাসের বড় অংশ এই অঞ্চলে কেন্দ্রীভূত হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে কোনো বড় সংঘাত দেখা দিলে তা সরাসরি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলে।
১৯০৮ সালে ইরানে প্রথম আধুনিক তেল আবিষ্কারের পর থেকে এই অঞ্চল বিশ্বজুড়ে জ্বালানি মানচিত্রে আধিপত্য বিস্তার করে আসছে। সৌদি আরবের ঘাওয়ার মতো ক্ষেত্রগুলো বিশ্বের বৃহত্তম তেলভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার অনুমান অনুযায়ী, এই অঞ্চলে এখনো বিপুল অপ্রকাশিত তেল ও গ্যাস মজুত থাকতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে উৎপাদন আরও বাড়ানোর সম্ভাবনা থাকলেও এর পূর্ণ কার্যকারিতা এখনও অনিশ্চিত।



