অল ক্রাইমস.টিভি ডেস্ক
ইরানকে ঘিরে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে যে চাপ তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলায় বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে জাপান। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াসহ এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলোর জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১০ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। এই তহবিল মূলত অপরিশোধিত তেলসহ জরুরি জ্বালানি সরবরাহ বজায় রাখতে ব্যবহৃত হবে।
এক ভার্চুয়াল বৈঠকে এশিয়ার বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে আলোচনার পর জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এই নতুন সহযোগিতা কাঠামোর ঘোষণা দেন। বৈঠকে অংশ নেওয়া দেশগুলোর মধ্যে ছিল বাংলাদেশ, ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম এবং দক্ষিণ কোরিয়া।
জ্বালানির দাম বাড়তে থাকায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে উদ্বেগ বাড়ছে। অনেক দেশে জ্বালানি সাশ্রয়ের আহ্বান জানানো হয়েছে—যেমন একাধিক ব্যক্তি মিলে গাড়ি ব্যবহার (কারপুলিং) এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র সীমিতভাবে চালানো। ইতোমধ্যে ফিলিপাইন জাতীয় পর্যায়ে জ্বালানি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে।
বৈঠকে ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফের্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে জ্বালানি ভাগাভাগির চুক্তি সক্রিয় করার আহ্বান জানান। তার মতে, এমন বড় ধরনের সরবরাহ সংকট কোনো একক দেশের পক্ষে সামাল দেওয়া সম্ভব নয়, তাই আঞ্চলিক সহযোগিতা অপরিহার্য।
বর্তমান সংকটের অন্যতম কারণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়া। বিশ্বে পরিবাহিত তেল ও গ্যাসের একটি বড় অংশ এই পথ দিয়ে যায়, যার প্রায় ৯০ শতাংশই এশিয়ার দেশগুলোর জন্য নির্ধারিত—ফলে এই অঞ্চল সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।
জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ঘোষিত সহায়তার পরিমাণ আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর বার্ষিক অপরিশোধিত তেল আমদানির প্রায় সমান। এই তহবিল জোগান দেবে জাপানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো, যেমন জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন, জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক।
প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি জানিয়েছেন, এই উদ্যোগ জাপানের নিজস্ব জ্বালানি নিরাপত্তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে না। ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ দেশটির মজুত তেল দিয়ে প্রায় ২৫৪ দিনের চাহিদা মেটানো সম্ভব ছিল। তবে বৈশ্বিক সংকটের কারণে ইতোমধ্যে সেই মজুত থেকে তেল ছাড়তে শুরু করেছে জাপান। গত মাসে ৫০ দিনের সমপরিমাণ তেল বাজারে ছাড়া হয়েছে এবং আগামী মে মাসের শুরুতে আরও ২০ দিনের মজুত ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
সব মিলিয়ে, জ্বালানি সরবরাহে বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার এই সময়ে জাপানের এই পদক্ষেপ এশিয়ার দেশগুলোর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও জোরদার করবে।



