অল ক্রাইমস.টিভি ডেস্ক
মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার হাটিপাড়া ইউনিয়নের বনপারিল দক্ষিণপাড়া এলাকায় নিখোঁজ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর আতিকা আক্তার (৭) নামে এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং বিক্ষুব্ধ জনতার গণপিটুনিতে দুজন নিহত ও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে দুদল মিয়া ও আরিফা আক্তার দম্পতির মেয়ে, প্রথম শ্রেণির ছাত্রী আতিকা আক্তার একটি গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে গিয়ে অন্যান্য শিশুদের সঙ্গে খেলছিল। কিছু সময় পর তাকে খুঁজে পাওয়া না গেলে পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। বিষয়টি দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে এবং মাইকিং করে তাকে খোঁজা হয়।
এ সময় আতিকার চাচাতো ভাই আলী (৬) জানায়, সে আতিকাকে প্রতিবেশী কিশোর নাঈম (১৫)-এর সঙ্গে যেতে দেখেছে। পরে সন্দেহভাজন নাঈমকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে পাশের একটি ভুট্টাক্ষেতের কথা জানায়। রাত আনুমানিক ১০টার দিকে ওই ক্ষেত থেকে আতিকার হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, স্বর্ণালংকার লুটের উদ্দেশ্যে শিশুটিকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।
ঘটনার পর এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষুব্ধ জনতা নাঈমের বাড়িতে হামলা চালায় এবং জড়িত সন্দেহে কয়েকজনকে গণপিটুনি দেয়। এতে নাঈমের পিতা পান্নু মিয়া (৪৫) এবং তার চাচা ফজলু (২৮) নিহত হন। এছাড়া পান্নু মিয়ার ছেলে নাজমুল (২২) গুরুতর আহত হন এবং তাকে মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
খবর পেয়ে মানিকগঞ্জ সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে। শিশুটির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইকরাম হোসেন জানান, শিশুহত্যার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে গণপিটুনির ঘটনাতেও দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



