অল ক্রাইমস.টিভি ডেস্ক
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে সহিংসতা ও হত্যাযজ্ঞ সংঘটনের অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সজীব ওয়াজেদ জয় ও জুনাইদ আহমেদ পলক–এর বিরুদ্ধে আজ গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
রোববার (১৯ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১–এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার–এর নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে রাষ্ট্রপক্ষের পঞ্চম সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করা হবে। মামলাটিকে ঘিরে আদালতপাড়ায় বাড়তি গুরুত্ব ও নজরদারি লক্ষ্য করা গেছে।
রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষে এদিন সাক্ষ্য দেবেন বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন্স কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল)–এর একজন কর্মকর্তা। নিরাপত্তাজনিত কারণে তার পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গণঅভ্যুত্থানের সময় ইন্টারনেট সংযোগ নিয়ন্ত্রণ ও বন্ধের নির্দেশনা বাস্তবায়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন কারিগরি ও প্রশাসনিক দিক তার সাক্ষ্যে উঠে আসতে পারে।
এর আগে চতুর্থ সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেওয়া বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)–এর এক কর্মকর্তার জেরা সম্পন্ন করবেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। ওই সাক্ষীর বক্তব্যে ইন্টারনেট বন্ধের সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে বলে জানা গেছে, যা আজকের কার্যক্রমে আরও বিস্তারিতভাবে আলোচিত হতে পারে।
মামলার অগ্রগতির ধারাবাহিকতায় আদালত ২০২৫ সালের ৪ ডিসেম্বর অভিযোগটি আমলে নেয় এবং সজীব ওয়াজেদ জয়–এর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। একইসঙ্গে গ্রেপ্তার থাকা জুনাইদ আহমেদ পলক–কে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থানের সময় পরিকল্পিতভাবে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রেখে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি, তথ্যপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণ এবং সহিংসতা সংগঠনে সহায়তা করা হয়, যা মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল।
বর্তমানে আসামিদের মধ্যে জুনাইদ আহমেদ পলক কারাগারে রয়েছেন। অন্যদিকে পলাতক থাকায় সজীব ওয়াজেদ জয়–এর পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মনজুর আলম আদালতে তার পক্ষে শুনানি পরিচালনা করছেন।



