অল ক্রাইমস.টিভি ডেস্ক
নারায়ণগঞ্জের সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমান–এর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় নতুন অভিযোগ তুলে ধরেছে প্রসিকিউশন। জুলাই–আগস্টের আন্দোলন দমনে অস্ত্র হাতে নিয়ে হত্যাযজ্ঞ চালানোর অভিযোগ এনে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আবেদন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ।
রোববার (১৯ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১–এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার–এর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে এ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর আবদুস সাত্তার পালোয়ান। তিনি অভিযোগ তুলে ধরে ১২ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আবেদন জানান।
রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্যে বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টে ছাত্র–জনতার আন্দোলন দমনে পরিকল্পিতভাবে সহিংসতা চালানো হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, শামীম ওসমান নিজেও অস্ত্র হাতে গুলি চালিয়েছেন এবং একটি অডিও ক্লিপ ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রসিকিউশনের দাবি, তার নির্দেশনায় এবং সমন্বয়ে সংগঠিত একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী নারায়ণগঞ্জে হামলা চালায়।
প্রসিকিউশন আরও জানায়, আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের–এর অনুমতি নিয়ে একটি সশস্ত্র বাহিনী গঠন করা হয়েছিল, যেখানে এ মামলার অন্যান্য আসামিরাও যুক্ত ছিলেন বলে দাবি করা হয়।
মামলায় মোট ১৮টি ভিডিও ফুটেজ, প্রায় ৩০০ পৃষ্ঠার নথিপত্র এবং ৬১ জন প্রত্যক্ষ সাক্ষীর তালিকা জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানায় রাষ্ট্রপক্ষ। প্রসিকিউটরদের দাবি, এসব প্রমাণের ভিত্তিতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করা সম্ভব হবে।
অন্যদিকে আসামিপক্ষ অভিযোগ গঠনের বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে সময় চেয়েছে। আদালত পরবর্তী শুনানির তারিখ ২৩ এপ্রিল নির্ধারণ করেছে।
মামলায় মোট ১২ জন আসামির মধ্যে রয়েছেন শামীম ওসমান–এর ছেলে অয়ন ওসমান, ভাতিজা আজমেরী ওসমানসহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা–কর্মী। সবাই বর্তমানে পলাতক রয়েছে এবং তাদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
প্রসিকিউশনের ভাষ্যমতে, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় কিশোর, শিক্ষার্থী ও শ্রমিকসহ কয়েকজনকে হত্যা করা হয়। ২১ জুলাই এবং ৫ আগস্টের ঘটনাতেও প্রাণহানির অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করেই ১৯ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয় এবং একই দিনে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।



