পরীক্ষামূলক সংস্করণ

নাইক্ষ্যংছড়িতে উদযাপিত হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী উৎসব সাংগ্রাই

অল ক্রাইমস. টিভি ডেস্ক

পার্বত্য অঞ্চলের পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর অন্যতম ঐতিহ্যবাহী উৎসব ‘সাংগ্রাই-২০২৬’ বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে উদযাপিত হচ্ছে। ঐতিহ্যবাহী নৃত্য, গ্রামীণ খেলাধুলা ও জলকেলির উচ্ছ্বাসে দুই দিনব্যাপী এই আয়োজন এখন উৎসবমুখর মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।

বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর ও পালস বাংলাদেশ সোসাইটির উদ্যোগে এবং স্থানীয় সাংগ্রাই উৎসব কমিটির সহযোগিতায় রোববার (১৯ এপ্রিল) দুপুর ২টায় নাইক্ষ্যংছড়ি ছালেহ আহাম্মদ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে উৎসবের উদ্বোধন করা হয়।

ত্রিপিটক পাঠ, শুভেচ্ছা বিনিময় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। এতে মারমা, চাক, ম্রো, ত্রিপুরা ও তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের শিল্পীরা নিজেদের ঐতিহ্যবাহী নৃত্য পরিবেশন করেন। রঙিন পোশাকে সজ্জিত তরুণ-তরুণী ও শিশুদের অংশগ্রহণ দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে।

সাংস্কৃতিক আয়োজনের পাশাপাশি পিঠা উৎসব ও পাহাড়িদের ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ খেলাধুলা উৎসবে নতুন মাত্রা যোগ করে। এর মধ্যে গিলা খেলা, বাঁশে ওঠা, দড়ি টানাটানি ও কাবাডি উল্লেখযোগ্য। এছাড়া মারমা সংস্কৃতির সংগীত পরিবেশনা এবং বহুল প্রতীক্ষিত জলকেলি বা পানি উৎসবেও মেতে ওঠেন উপস্থিতরা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক তানজিম ইবনে ওয়াহাব বলেন, সাংগ্রাই উৎসব পার্বত্য অঞ্চলের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। এটি দেশের বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক ঐক্যকে প্রকাশ করে।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের পরিচালক আসমা ফেরদৌসি, সচিব সাদেকুর রহমান, পালস বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাহী পরিচালক সাইফুল ইসলাম চৌধুরী কলিম এবং নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী।

উৎসবের দ্বিতীয় দিনে সোমবার (২০ এপ্রিল) সকাল থেকে সোনাইছড়ি লামার পাড়া বৌদ্ধ মন্দিরে ত্রিপিটক পাঠ, সাংস্কৃতিক নৃত্য, পিঠা উৎসব ও ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা অনুষ্ঠিত হবে। দুপুরে পানি উৎসব ও আলোচনা সভা শেষে বিকেলে উপজেলা হলরুমে সমাপনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উৎসবের পরিসমাপ্তি ঘটবে।

প্রধান খবর

আসছে...