অল ক্রাইমস.টিভি ডেস্ক
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার কুয়াকাটার চর গঙ্গামতি সমুদ্রসৈকত একসময় পর্যটকদের কাছে ‘মিনি সুইজারল্যান্ড’ নামে পরিচিত ছিল। ঝাউবন ও ম্যানগ্রোভের সবুজে ঘেরা এই সৈকত এখন অবৈধ গাছ কাটা ও বন উজাড়ের কারণে ধীরে ধীরে তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য হারাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বঙ্গোপসাগরের কোলঘেঁষা প্রায় ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সৈকত উপকূলীয় পরিবেশ রক্ষা ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একসময় ঝাউ ও ম্যানগ্রোভের ছায়ায় পর্যটকরা প্রকৃতির স্বাদ নিলেও এখন অনেক জায়গা খোলা ও শুষ্ক হয়ে পড়েছে। ফলে কমে গেছে প্রাণবৈচিত্র্য, একই সঙ্গে কমছে পর্যটকদের আগ্রহও।
সরেজমিনে দেখা যায়, সৈকতের বিভিন্ন অংশে গাছ কাটা ফাঁকা জায়গা ও কাটা গুঁড়ির চিহ্ন রয়েছে। ছায়াহীন পরিবেশে পর্যটকদের ভোগান্তিও বাড়ছে। অনেক দর্শনার্থী জানিয়েছেন, আগের মতো প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও প্রাণবন্ত পরিবেশ এখন আর নেই।
পর্যটকরা বলছেন, একসময় এখানে লাল কাঁকড়া ও বিভিন্ন পাখির বিচরণ ছিল চোখে পড়ার মতো, যা এখন অনেকটাই কমে গেছে। গাছ কমে যাওয়ায় পুরো এলাকায় আগের সেই স্বাভাবিক সৌন্দর্য আর নেই বলে তারা মন্তব্য করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বন বিভাগের নজর এড়িয়ে কিছু প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছে। এসব কাঠ জ্বালানি বা বিক্রির কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও দাবি তাদের।
এ বিষয়ে গঙ্গামতি ফরেস্ট ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুর রাজ্জাক জানান, বন রক্ষায় নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে এবং চিহ্নিতদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা করা হয়েছে। অন্যদিকে মহিপুর রেঞ্জের বন কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, বন বিভাগের টহল জোরদার করা হয়েছে এবং অবৈধ কর্মকাণ্ড রোধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।



