কুমিল্লার দাউদকান্দির এক বিধবা নারীকে ধর্ষণ ও জোরপূর্বক ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা জিসান মিয়া বর্তমানে পুলিশি পাহারায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের দাবি, পরীক্ষা-নিরীক্ষাসহ চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী জিসান পুরোপুরি সুস্থ থাকা সত্ত্বেও নিজেকে ‘অসুস্থ’ দেখিয়ে চোখ বন্ধ করে রাখছেন, যার ফলে তাকে আদালতে হাজির করা সম্ভব হচ্ছে না।
পুলিশ কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, মামলার বাদী ভুক্তভোগী নারীকে বিয়ে করা এড়াতে জিসান নিজেই অপহরণের নাটক সাজিয়েছিলেন। গত ১১ জুন রাতে তিনি নিখোঁজ হওয়ার দাবি করার পর তার পরিবার থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে। পরবর্তীতে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায় এবং সেখানে থাকা অবস্থাতেই ওই নারীর করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। শুরুতে হাসপাতালে এসে জিসান পুলিশের সঙ্গে সম্পূর্ণ স্বাভাবিকভাবে কথা বললেও, যখনই জানতে পারেন যে তাকে ধর্ষণের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে, তখন থেকেই তিনি চোখ খুলছেন না বা অসংলগ্ন আচরণ করছেন। জিসানের শারীরিক অবস্থা পর্যালোচনার জন্য ইতোমধ্যে চার সদস্যের একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধানের নেতৃত্বে এই বোর্ডে অ্যানেসথেসিয়া, নিউরো মেডিসিন ও মনোরোগবিদ্যা বিভাগের বিশেষজ্ঞরা রয়েছেন। সোমবার (১৫ জুন) বেলা ১১টার দিকে এই বোর্ড জিসান মিয়ার শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে এবং তিনি সুস্থ প্রমাণিত হলে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দিয়ে তাকে আদালতে পাঠানো হবে।
পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয় হওয়া ওই বিধবা নারীর সাথে জিসানের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর জিসান তাকে জোরপূর্বক গর্ভপাত করতে বাধ্য করেন। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী নারী বিয়ের জন্য চাপ দিলে ১২ জুন বিয়ের তারিখ নির্ধারিত হয়। কিন্তু সেই বিয়ে এড়াতে ১১ জুন রাতেই জিসান আত্মগোপনে চলে যান এবং শুক্রবার রাতে লাকসাম রেলওয়ে জংশন এলাকা থেকে তাকে ‘অচেতন’ অবস্থায় উদ্ধারের নাটক সাজানো হয়। এই ঘটনায় ওই নারী বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দাউদকান্দি মডেল থানায় জিসানসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। মামলার অপর তিন আসামি সেকান্দর আলী, গোলাম রাব্বী ও সজীব হাসানকে ইতোমধ্যে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। উল্লেখ্য, জিসান মিয়া ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এবং সংগঠনটির কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এই অনৈতিক ঘটনার জেরে তাকে ছাত্রশিবির থেকে বহিষ্কারের প্রক্রিয়া চলছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।



