পরীক্ষামূলক সংস্করণ

শুরু হয়ে গেল এল নিনো, ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ংকর রূপ দেখার আশঙ্কা!

বিশ্বজুড়ে আবহাওয়া ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের শঙ্কা জাগিয়ে আবারও শুরু হয়েছে জলবায়ুগত ঘটনা এল নিনো, যা অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ংকর ও উষ্ণতম বছর সৃষ্টি করতে পারে বলে বিজ্ঞানীরা পূর্বাভাস দিয়েছেন।গত ১১ জুন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোসফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এনওএএ) নতুন এল নিনোর সূচনার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, এবারের এল নিনো যদি পূর্বাভাস অনুযায়ী শক্তিশালী হয়, তবে এটি গত ৭৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়ংকর রূপ ধারণ করতে পারে। এর ফলে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা, খরা, তীব্র তাপপ্রবাহ, দাবানল ও চরম খাদ্যসংকটের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যাবে। বিশেষ করে আফ্রিকা, মধ্য আমেরিকা, ক্যারিবীয় অঞ্চল এবং এশিয়ার কিছু অংশে খরা ও বন্যা পরিস্থিতি আরও মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। শত শত বছর আগে পেরুর জেলেরা প্রথম লক্ষ্য করেছিলেন যে, কয়েক বছর পরপর বড়দিনের সময় প্রশান্ত মহাসাগরের নিরক্ষীয় অঞ্চলে অ্যাঙ্কোভি মাছ হঠাৎ করে অনেক কমে যায়। তারা এই বিশেষ ঘটনাকে ‘এল নিনো’ নামে অভিহিত করেন, যার অর্থ ‘শিশু যিশু’। বর্তমানে এল নিনোকে একটি বৈশ্বিক জলবায়ুগত চক্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যা নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের ওপর দিয়ে প্রবাহিত বায়ুর গতিপথ পরিবর্তনের ফলে সৃষ্টি হয়। এতে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেড়ে যায় এবং বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের আবহাওয়ার সামগ্রিক ধরন বদলে যায়।

এল নিনোর শক্তি মূলত নির্ধারণ করা হয় সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা দীর্ঘমেয়াদি গড়ের তুলনায় কতটা বেড়েছে তার ওপর ভিত্তি করে। সাধারণত তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি বৃদ্ধি পেলে সেটিকে শক্তিশালী এল নিনো ধরা হয়। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আবহাওয়া মডেলের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালের বাকি সময় এবং ২০২৭ সালের শুরুর দিকে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা গড়ে ২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি, এমনকি ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও ওপরে উঠে যেতে পারে। এখন পর্যন্ত ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী এল নিনো ছিল ১৯৮২-৮৩ সালের, যখন তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছিল ২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এবারের এল নিনো সেই রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এল নিনো নিজে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্টি না হলেও, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের সঙ্গে মিলিত হয়ে এর প্রভাব আরও তীব্র হয়ে ওঠে। ১৯৯৭-৯৮ সালের শক্তিশালী এল নিনোর পর ১৯৯৮ সাল সে সময়ের সবচেয়ে উষ্ণ বছর হিসেবে রেকর্ড গড়েছিল। একইভাবে ২০১৫-১৬ সালের এল নিনোর পর ২০১৬ সালে নতুন রেকর্ড তৈরি হয়। বর্তমানে ২০২৪ সাল সবচেয়ে উষ্ণ বছর হিসেবে রেকর্ডধারী, যে বছর বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা শিল্পবিপ্লব-পূর্ব সময়ের তুলনায় ১ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল। জলবায়ু মডেল অনুযায়ী, এবারের এল নিনোর প্রভাবে ২০২৭ সাল আরও বেশি উষ্ণ হতে পারে।

এই এল নিনোর প্রভাব সব অঞ্চলে এক রকম হয় না, কোথাও চরম খরা দেখা দেয়, আবার কোথাও অতিবৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যা হয়। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) গত ৯ জুন সতর্ক করে বলেছে, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং সাহেল অঞ্চলের মানুষ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এর আগে ২০২৩-২৪ সালের এল নিনোর সময় দক্ষিণ আফ্রিকায় এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ খরা দেখা গিয়েছিল। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার মতে, সোমালিয়ায় আগামী অক্টোবর পর্যন্ত খরা চলতে পারে এবং এরপর ডিসেম্বর পর্যন্ত ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। তবে দীর্ঘ খরার পর এই অতিবৃষ্টি পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করতে পারে, কারণ শুকিয়ে যাওয়া মাটিতে বৃষ্টির পানি সহজে শোষিত হয় না, ফলে আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। একই সঙ্গে মধ্য আমেরিকা, ক্যারিবীয় অঞ্চল এবং এশিয়ার বিভিন্ন এলাকাও খরার ঝুঁকিতে রয়েছে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা আরও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন যে, বিশ্বের অনেক অঞ্চল এরই মধ্যে যুদ্ধ, খাদ্যসংকট ও অর্থনৈতিক সংকটে ভুগছে, যা এই শক্তিশালী এল নিনোর কারণে আরও জটিল হতে পারে। বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জটিলতার কারণে আন্তর্জাতিকভাবে সার সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে, যা কৃষি উৎপাদনকে মারাত্মক ব্যাহত করতে পারে। ইউরোপীয় কমিশন সতর্ক করেছে যে, সুদান, সোমালিয়া, দক্ষিণ সুদান, চাদ, ইকুয়েডর, ভেনেজুয়েলা ও হাইতির মতো দেশগুলো এর ফলে চরম মানবিক সংকটের মুখে পড়তে পারে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এল নিনোর প্রভাব পুরোপুরি ঠেকানো সম্ভব না হলেও খরাসহিষ্ণু বীজ ব্যবহার, গবাদিপশুর জন্য খাদ্য ও পানি সংরক্ষণ এবং আগাম দুর্যোগ প্রস্তুতির মাধ্যমে ক্ষতির পরিমাণ অনেক কমিয়ে আনা সম্ভব।

প্রধান খবর

গুলিতে নিহত যুবদল কর্মী/ কাউন্সিলর প্রার্থী হওয়ার প্রত্যাশাতেই হত্যার নীল নকশার অভিযোগ

গত শুক্রবার ২৪ জুলাই রাজধানীর মিরপুরের কাফরুল এলাকায় গুলি করে যুবদলের কর্মী ইউসুফকে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার পরবর্তী এক সংবাদ সন্মেলনে পুলিশের পক্ষ থেকে এলাকা আধিপত্য ও

চট্টগ্রাম নগরের আলোচিত ও শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন গ্রেপ্তার

মুনতাসীর মামুন : চট্টগ্রাম নগরের আলোচিত ও শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ বুধবার (২৯ জুলাই) যশোরের ঝিকরগাছা সীমান্ত এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ইমনের গ্রেপ্তারের বিষয়টি

কমলাপুর রেলস্টেশনে নিয়মিত যৌথ অভিযান চালাবে র‍্যাব ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ

মুনতাসীর মামুন : টিকিট কালোবাজারি, মাদক ও চোরাচালান বন্ধে টাউনহল সভায় সিদ্ধান্ত রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশন ও আশপাশের এলাকায় টিকিট কালোবাজারি, মাদক ও চোরাচালানসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে নিয়মিত যৌথ অভিযান চালাবে

আসছে...