ইসলামী ব্যাংক ইস্যুতে সরকারকে সতর্ক করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি বলেছেন, এই ব্যাংক নিয়ে সরকার সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হলে দেশের অর্থনীতি গভীর হুমকির মুখে পড়তে পারে।
শুক্রবার (১৯ জুন) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী শ্যামপুর জোনের বাছাইকৃত সদস্য (রুকন) শিক্ষাশিবির অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এই হুঁশিয়ারি দেন। তিনি ইসলামী ব্যাংকের প্রকৃত মালিকদের সমন্বয়ে অবিলম্বে পরিচালনা পর্ষদ গঠন এবং ব্যাংক থেকে পাচার হওয়া সমস্ত অর্থ ফিরিয়ে আনার জোর দাবি জানান। ব্যাংকটির গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, “ইসলামী ব্যাংক কেবলমাত্র একটি গতানুগতিক ধারার ব্যাংক নয়; বরং ইসলামী ব্যাংকের ওপর এদেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড নির্ভর করে। দেশের অর্থনীতিতে ইসলামী ব্যাংক যেই অবদান রেখেছে সেই ধারা অব্যাহত রাখতে হলে ইসলামী ব্যাংকের প্রকৃত মালিকদের সমন্বয়ে পরিচালনা পর্ষদ গঠন করতে হবে।” বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, “পতিত আওয়ামী লীগ এস আলম গ্রুপের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংক থেকে যেই অর্থ পাচার করেছে সেই অর্থ ফিরিয়ে আনতে হবে। এবং ইসলামী ব্যাংকের ভেতরে থাকা এস আলমের দোসরদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। জনগণের আমানতের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সৎ ও যোগ্য আদর্শিক লোকদের সমন্বয়ে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ গঠন করতে হবে।” দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে একটি দায়িত্বশীল বিরোধীদল হিসেবে জামায়াতে ইসলামী সরকারকে সব ধরনের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় রাষ্ট্রের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় সরকারি দল ও বিরোধীদলের সমান ভূমিকার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, জামায়াতে ইসলামী দেশ ও জাতির যেকোনও প্রয়োজনে সরকারকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে। তবে এর পাশাপাশি তিনি সরকারকে হুঁশিয়ার করে বলেন, “সরকার যদি দেশ ও জাতির বিপক্ষে গিয়ে কোনও আধিপত্যবাদী গোষ্ঠীর মদদে চলে তবে সরকারকে সোজা পথে আনতে যা যা করণীয় জামায়াতে ইসলামী তা করবে।” দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে জামায়াতে ইসলামী বরাবরই আপোষহীন উল্লেখ করে তিনি বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রনীতির সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কারণে সরকার সীমান্ত হত্যা এবং পুশইন বন্ধ করতে পারছে না, এমনকি প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে ন্যায্যতা ও সমতার ভিত্তিতে বিদ্যমান কোনেও সমস্যার সমাধানও করতে পারছে না।
উক্ত শিক্ষাশিবির অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর আব্দুস সবুর ফকির। কর্মীদের দিকনির্দেশনা দিয়ে তিনি বলেন, “ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের নিঃস্বার্থভাবে ভূমিকা রাখতে হয়। সেই নিঃস্বার্থ ভূমিকা রেখে জামায়াতে ইসলামীর কর্মীরা দায়িত্ব পালন করে আসছেন। আগামীতেও জাতির যেকোনও প্রয়োজনে জামায়াতে ইসলামীর সর্বস্তরের নেতাকর্মী নিঃস্বার্থ ভূমিকা অব্যাহত রাখবে।”
ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য ও শ্যামপুর জোন পরিচালক সৈয়দ জয়নুল আবেদীন এমপির সভাপতিত্বে এবং সহকারী জোন পরিচালক ও কদমতলী মধ্য থানা আমির মোহাম্মদ মহিউদ্দিনের নিখুঁত পরিচালনায় অনুষ্ঠিত এই শিক্ষাশিবিরে আরও গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন মহানগরীর ওলামা বিভাগের সেক্রেটারি মাওলানা মুফতি মহিউদ্দিন, কদমতলী জোনের সহকারী পরিচালক আব্দুর রহিম জীবন এবং যাত্রাবাড়ী থানা আমির মাওলানা সাদিক বিল্লাহ। এ সময় অনুষ্ঠানে জোন টিম সদস্য মো. জাকির হোসেন, কদমতলী দক্ষিণ থানা আমির ইঞ্জিনিয়ার মো. হাবিবুর রহমান, শ্যামপুর দক্ষিণ থানা আমির মো. কামরুল আহসান, শ্যামপুর পশ্চিম থানা আমির মো. আসাদুল্লাহ শেখসহ শ্যামপুর জোনের বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ ও কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।



