টানা ভারী বর্ষণের মুখে সোমবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা নেওয়া বা স্থগিতের বিষয়টি জেলা প্রশাসক, শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং আবহাওয়া অফিসের তথ্য বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
২০২৬ সালের ১২ জুলাই, রবিবার রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা-২০২৫-এর ফল প্রকাশের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শিক্ষামন্ত্রী এ কথা বলেন। চলমান দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও যাতায়াতের সুবিধার কথা বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, ঢাকার তীব্র বৃষ্টি পরিস্থিতি নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জরুরি বৈঠক করেছেন। শনিবার থেকেই দেশের ৬৪ জেলার জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডগুলোর সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখে স্থানীয় পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ পূর্বাভাসের তথ্য হাতে পাওয়ার পর আবারও বৈঠক করে চূড়ান্ত ও প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হবে।
যদি দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে কোনো বিশেষ এলাকার পরীক্ষা স্থগিত করতে হয়, তবে সেই পরীক্ষাগুলো পরবর্তী সুবিধাজনক সময়ে নেওয়ার জন্য ব্যাকআপ বা বিকল্প ব্যবস্থাও ইতিমধ্যে প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে মন্ত্রী আশ্বস্ত করেন।
রবিবার এইচএসসি ও সমমানের কোনো নির্ধারিত পরীক্ষা ছিল না। তবে সোমবার (১৩ জুলাই) পদার্থবিজ্ঞান, হিসাববিজ্ঞান এবং যুক্তিবিদ্যার প্রথম পত্রের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার সূচি রয়েছে। এরপর চলতি সপ্তাহের বুধ ও বৃহস্পতিবারও অন্যান্য বিষয়ের পরীক্ষার তারিখ নির্ধারিত আছে।
টানা বৃষ্টিপাত ও বিভিন্ন এলাকায় আকস্মিক বন্যার কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে থাকা এইচএসসি ও সমমানের সব পরীক্ষা আগামী ১৬ জুলাই পর্যন্ত সরকার ইতিমধ্যে স্থগিত ঘোষণা করেছে। তবে দেশের বাকি ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি পরীক্ষা এবার অভিন্ন প্রশ্নপত্রে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা গত ২ জুলাই থেকে শুরু হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রীর সাথে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিনুল হক এবং প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন। এছাড়াও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসীসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।



