দীর্ঘদিনের সামরিক উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও ইরানের হামলা থেকে কুয়েতকে পুরোপুরি সুরক্ষা দিতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও ওয়াশিংটনের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান উত্তেজনার মধ্যে কুয়েতের নিরাপত্তা নির্ভরতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় কুয়েতে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি ও প্রতিরক্ষা কৌশল পুনর্মূল্যায়ন করছে ওয়াশিংটন।
সম্প্রতি কুয়েতের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, যেমন বিদ্যুৎকেন্দ্র, লোনা পানি শোধনাগার, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, প্রধান সমুদ্রবন্দর এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিচালিত তেল রপ্তানি রুট লক্ষ্য করে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এসব হামলার অনেকগুলো প্রতিহত করতে সক্ষম হলেও মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোও হামলার ঝুঁকির বাইরে থাকেনি। এর ফলে কুয়েতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, কুয়েত একদিকে নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আরও কার্যকর নিরাপত্তা নিশ্চয়তা চাইছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষা সম্পর্কও বজায় রাখতে আগ্রহী।
আরব গালফ স্টেটস ইনস্টিটিউটের প্রধান ও কুয়েতে নিযুক্ত সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডগলাস সিলিমান জানান, হামলার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হলেও কুয়েতের প্রতিরক্ষায় মার্কিন উপস্থিতিকে এখনো গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কুয়েত সম্প্রতি পাকিস্তানের সঙ্গে নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তি করলেও যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমানোর স্পষ্ট কোনো পরিকল্পনা নেই। বরং উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও আধুনিক অস্ত্র সরবরাহের বিষয়ে ওয়াশিংটনের সহযোগিতা আরও বাড়ানোর প্রত্যাশা রয়েছে।
কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি দিন দিন জটিল হচ্ছে। ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও অন্যান্য সামরিক হুমকি মোকাবিলায় দুই দেশ ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাচ্ছে।



