ইন্দোনেশিয়ায় বালি থেকে লম্বকের পথে যাত্রা করা একটি যাত্রীবাহী ফেরিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১২ আগস্ট) স্থানীয় সময় সকালে এ ঘটনা ঘটে। আগুন লাগার পর দ্রুত উদ্ধারকারী বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে শতাধিক যাত্রীকে উদ্ধার করে।
এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শতাধিক যাত্রী নিয়ে ফেরিটি ইন্দোনেশিয়ার পর্যটন দ্বীপ বালি থেকে পার্শ্ববর্তী লম্বক দ্বীপের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। মাঝপথে ফেরিটিতে আগুন ধরে যায়।
সরকারি অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী সংস্থার লম্বক শাখার প্রধান নির্বাহী মুহাম্মদ হরিয়াদি স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেল মেট্রো টিভিকে জানান, ফেরিতে আগুন লাগার অল্প সময়ের মধ্যেই উদ্ধারকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে যাত্রীদের উদ্ধার করে তিনটি নৌযানে স্থানান্তর করা হয়।
তিনি জানান, প্রথম উদ্ধারকারী নৌযানে ৩০ জন, দ্বিতীয়টিতে ৫৯ জন এবং তৃতীয় নৌযানে ১৭ জন যাত্রীকে লম্বকে নিয়ে আসা হয়েছে। অর্থাৎ মোট ১০৬ জন যাত্রীকে উদ্ধার করা হয়েছে।
তবে ফেরিটিতে আগুন লাগার সময় মোট কতজন যাত্রী ছিলেন, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে ফেরিতে থাকা সব যাত্রীকে উদ্ধার করা হয়েছে কি না, তা নিয়েও নিশ্চিত হতে পারেনি উদ্ধারকারী কর্তৃপক্ষ।
মুহাম্মদ হরিয়াদি বলেন, উদ্ধারকারী বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে উদ্ধারকারী দল পৌঁছানোর আগে কেউ হতাহত হয়েছেন কি না, সে তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পর বেশ কিছু সময় ধরে উদ্ধারকারী বাহিনীর নৌযান ও হেলিকপ্টার ঘটনাস্থলে টহল দেয়।
বিশ্বের বৃহত্তম দ্বীপরাষ্ট্র ইন্দোনেশিয়ায় ফেরি দুর্ঘটনা নতুন নয়। দেশটির দ্বীপগুলোর মধ্যে যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম ফেরি হওয়ায় নৌপথে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও রয়েছে।
এর মাত্র পাঁচ দিন আগে, ৭ আগস্ট জাভা দ্বীপে একটি ফেরিতে আগুন লেগে পাঁচজন নিহত হন। এর আগে সেলায়ার দ্বীপের কাছে ফেরি ডুবে ৭০ জনের মৃত্যু হয়েছিল।
প্রায় ১৭ হাজার দ্বীপ নিয়ে গঠিত ইন্দোনেশিয়া নৌ-যোগাযোগের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। দেশটিতে ফেরি দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে নৌযানের নিরাপত্তাব্যবস্থার ঘাটতি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়।



