রাজধানীর বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক এলাকায় ফুটপাতে উঠে পড়া প্রাইভেটকারের ধাক্কায় নির্মাণ শ্রমিক মেহেদী হাসান মিমের মৃত্যুর ঘটনায় দুই পক্ষের মধ্যে ৯ লাখ টাকায় আপস-মীমাংসা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৮-এর বিচারক মো. আব্দুল মোক্তাদিরের আদালতে বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়। পরে আসামিপক্ষের আইনজীবী আলমগীর হোসেন জানান, ইতোমধ্যে আপসের ৯ লাখ টাকা নিহতের পরিবারকে দেওয়া হয়েছে।
আইনজীবী বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে আপস হয়ে গেছে। আসামিরা জামিন বা খালাস পেলে বাদীপক্ষের কোনো আপত্তি নেই।
আপসনামায় বলা হয়েছে, গত ২২ সেপ্টেম্বর বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে গুলশান থানাধীন বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক এলাকার ১ নম্বর সড়কে দুর্ঘটনাটি ঘটে। ঢাকা মেট্রো-গ-১৮-৬৬৭৬ নম্বরের একটি প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের ফুটপাতে উঠে যায়। সেখানে থাকা মেহেদী হাসান মিম (২৪) গাড়ির ধাক্কায় গুরুতর আহত হন। পরে তার মৃত্যু হয়।
আপসনামার তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার সময় গাড়িটি চালাচ্ছিলেন আকাশ মারক (৪৪)। গাড়িতে ছিলেন তার ছোট ভাই আজান আলী শারীফ (১৭)।
দুর্ঘটনার পর নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে গুলশান থানায় সড়ক পরিবহন আইনে মামলা করা হয়।
পরে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে আপস-মীমাংসা হয়। আপসনামায় বলা হয়েছে, ঘটনাটি অনিচ্ছাকৃত দুর্ঘটনা এবং দুই পক্ষের মধ্যে আগে কোনো শত্রুতা বা পরিচয় ছিল না।
আপসনামা অনুযায়ী, নিহত মেহেদী হাসান মিমের দাফন-কাফন ও ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে ১ লাখ টাকা দেওয়া হয়। এছাড়া তার বৃদ্ধ বাবা-মায়ের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনায় আরও ৮ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে নিহতের পরিবার ৯ লাখ টাকা গ্রহণ করেছে।
আপসের শর্ত অনুযায়ী, নিহতের পরিবার দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। একই সঙ্গে গাড়িচালক আকাশ মারক ও আজান আলী শারীফের জামিনের বিষয়ে আদালতে অনাপত্তি জানাবে।
মামলা প্রত্যাহারের যাবতীয় ব্যয় গাড়ির পক্ষ বহন করবে বলেও আপসনামায় উল্লেখ করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে আদালতে উপস্থিত থেকে সহযোগিতা করার কথাও বলা হয়েছে।
এ ছাড়া দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ি মেরামত কিংবা গাড়িচালক ও আজান আলী শারীফের চিকিৎসা ব্যয় বাবদ নিহতের পরিবারের কাছে কোনো ক্ষতিপূরণ দাবি করা হবে না বলে উল্লেখ রয়েছে।
আপসনামায় আরও বলা হয়েছে, দুর্ঘটনাটি নিয়ে ভবিষ্যতে দুই পক্ষের কেউ নতুন করে কোনো অভিযোগ বা আপত্তি উত্থাপন করবে না।
এদিকে, আইনজীবীর তথ্যমতে, মামলার পরবর্তী শুনানি ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৫-এ অনুষ্ঠিত হবে।



