রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিন-ইচি। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বঙ্গভবনে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং অবকাঠামো, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, মানবসম্পদ উন্নয়ন, কৃষি, জ্বালানি ও কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়।
এ সময় জাপানের সম্রাট নারুহিতোর একটি অভিনন্দনবার্তা রাষ্ট্রপতির কাছে হস্তান্তর করেন রাষ্ট্রদূত সাইদা শিন-ইচি। রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় সম্রাটের শুভেচ্ছার জন্য তাকে ধন্যবাদ জানান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
রাষ্ট্রপতি জাপানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ও উন্নয়ন সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি ঢাকা মেট্রোরেল ও মেঘনা সেতুসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়নে জাপানের সহযোগিতার প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে জাপানের সহযোগিতায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার কাজ দ্রুত চালু হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
জাপানে বাংলাদেশি জনশক্তির কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়ার জন্য দেশটিকে ধন্যবাদ জানান রাষ্ট্রপতি। পাশাপাশি বাংলাদেশে কারিগরি শিক্ষা ও জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণের জন্য বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে জাপানের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষাবৃত্তির সুযোগ আরও বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন রাষ্ট্রপতি।
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে, বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলে ফল-ফসল ও কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণসহ বিভিন্ন খাতে জাপানি বিনিয়োগের আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। জাপানের রাষ্ট্রদূত এতে আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে জাপানের আগ্রহের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা মোকাবিলায় বাংলাদেশকে সহযোগিতার আগ্রহের কথাও জানান জাপানের রাষ্ট্রদূত।
এ ছাড়া জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জন্য জাপানের মানবিক সহায়তার প্রশংসা করেন রাষ্ট্রপতি। রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের ওপর জাপানের অব্যাহত চাপ ও সমর্থন কামনা করেন তিনি।
রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক আরও জোরদারে রাষ্ট্রদূতের ভূমিকার জন্য তাকে ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে কৌশলগত অংশীদারিত্বে উন্নীত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব, প্রেস সচিব ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব উপস্থিত ছিলেন।



