যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) আবাসিক হলে গোসল করাকে কেন্দ্র করে বাগবিতণ্ডার জেরে এক সহপাঠীকে থাপ্পড় ও লাথি মারার অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। এতে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর কানের পর্দা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের চিফ মেডিকেল অফিসার। এ ঘটনায় প্রক্টর ও প্রভোস্টের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী।
ভুক্তভোগী জুয়েল আল ইমরান বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। অভিযুক্ত তানভীর হক ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের একই শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় অভিযুক্ত অন্য দুই শিক্ষার্থী রাজিন মাহমুদ খান কাব্য ও অস্কার ইংরেজি বিভাগের একই শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (২ অক্টোবর) দুপুরে আবাসিক হলের ওয়াশরুমে গোসল করাকে কেন্দ্র করে জুয়েলের সঙ্গে তানভীরের বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরে বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলায় উভয় পক্ষের শিক্ষার্থীরা আলোচনায় বসেন।
অভিযোগে বলা হয়, আলোচনার একপর্যায়ে তানভীর ক্ষিপ্ত হয়ে জুয়েলকে কানে সজোরে থাপ্পড় মারেন এবং বুকে লাথি দিয়ে তাকে বেঞ্চের নিচে ফেলে দেন। গুরুতর আহত অবস্থায় বন্ধুরা জুয়েলকে উদ্ধার করে যশোর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের চিফ মেডিকেল অফিসার ডা. দীপক কুমার মণ্ডল এশিয়া পোস্টকে জানান, আঘাতে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর কানের পর্দা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সেখানে রক্ত জমেছে। কানের পর্দা ছিদ্র হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তাকে দ্রুত নাক-কান-গলা (ইএনটি) বিশেষজ্ঞের কাছে পরীক্ষার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত তানভীর হক মারধরের কথা স্বীকার করে বলেন, বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে হাতাহাতি হলে তিনি জুয়েলকে একটি থাপ্পড় দেন। তবে ওই আঘাত এতটা গুরুতর হবে, তা তিনি ধারণা করতে পারেননি।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও একই শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রাজিন মাহমুদ খান কাব্য ঘটনাটিকে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা বলে উল্লেখ করেন।
শিক্ষার্থী মারধরের ঘটনায় শহীদ মশিয়ূর রহমান হলের প্রভোস্ট ড. মো. মজনুজ্জামান এশিয়া পোস্টকে বলেন, ভুক্তভোগীকে প্রাথমিকভাবে পুরো ঘটনা লিখিত আকারে প্রক্টর অফিসে জমা দিতে বলা হয়েছে। ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের পর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. হামিদুর রহমান এশিয়া পোস্টকে জানান, চিফ মেডিকেল অফিসারের মাধ্যমে তিনি বিষয়টি জানতে পেরেছেন। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা হয়েছে এবং তার লিখিত অভিযোগও পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
ড. মো. হামিদুর রহমান আরও বলেন, যে কোনো পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের পাশে থাকবে।



