মেহেরপুরের সদর উপজেলায় জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে ঘুমন্ত বাবাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর একমাত্র ছেলে সাহাবুল শেখের বিরুদ্ধে। সোমবার দুপুরে ঝাউবাড়িয়া গ্রামের নওদাপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর অভিযুক্ত সাহাবুলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
নিহত হাবেল শেখের বয়স ৭০ বছর। তিনি ঝাউবাড়িয়া গ্রামের নওদাপাড়ার বাসিন্দা এবং মৃত শামসুদ্দিন শেখের ছেলে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত তাঁর ছেলে সাহাবুল শেখের বয়স ৪০ বছর।
পুলিশ ও স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নিজ শয়নকক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন হাবেল শেখ। এ সময় তাঁর ছেলে সাহাবুল ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে এলোপাতাড়ি কোপান বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে হাবেল শেখের গলা ও বাঁ হাতের একটি অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। গুরুতর জখমের কারণে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহতের ভাতিজা শাহাবাজ উদ্দিন জানান, দীর্ঘদিন ধরে হাবেল শেখের সঙ্গে তাঁর ছেলের পারিবারিক বিরোধ চলছিল। বাবা-ছেলের সম্পর্কও ভালো ছিল না। ঘটনার আগের দিন হাবেল শেখ ছেলেকে না জানিয়ে একটি গাছ বিক্রি করেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন তিনি।
গ্রেপ্তারের সময় সাহাবুলের বক্তব্যের বরাতে জানা গেছে, তাঁর বাবা তাঁকে সবকিছু থেকে বঞ্চিত করে আসছিলেন বলে তিনি দাবি করেছেন। ঘটনার দিন নিজের জমিতে অন্য একজনকে সার ছিটাতে দেখে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন বলেও জানান। এ কারণে বাবাকে হত্যা করেছেন বলে দাবি করেন সাহাবুল।
মেহেরপুর জেলা পুলিশের মিডিয়া ফোকাল পারসন ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামিনুর রহমান খান বলেন, ঝাউবাড়িয়া গ্রামের নওদাপাড়ায় বাবাকে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত ছেলেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।



