ঢাকায় রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র ও ডিজিটাল মাধ্যমে উসকানিমূলক কনটেন্ট প্রচারের অভিযোগে করা মামলায় অবসরপ্রাপ্ত দুই সেনা কর্মকর্তার রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলম তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে এ আদেশ দেন।
আসামিরা হলেন লেফটেন্যান্ট (অব.) কাজী গুলশান আরা (৪৩) ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) দেবাশীষ (৪৭)।
সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে তাদের ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আনা হয়। পরে তাদের আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। শুনানির সময় বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটের দিকে কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় তাদের এজলাসে নেওয়া হয়।
শুনানিতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আসামিদের রিমান্ডে নেওয়ার কারণ আদালতের কাছে তুলে ধরেন। আসামিপক্ষে অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মুনসুর রিপন রিমান্ড বাতিল এবং জামিনের আবেদন জানান। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাডভোকেট হারুন অর রশিদ রিমান্ড মঞ্জুরের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেকের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে রিমান্ডের আদেশ দেন।
রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, আসামিরা পল্লবী থানাধীন একটি বাসায় অবস্থান করে ‘Bangladesh Awami League Supporters Alpha # 1’ এবং ‘BBM Transparency’ নামের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে রাষ্ট্রবিরোধী ও সহিংস উসকানিমূলক ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি ও প্রচার করছিলেন।
আবেদনে আরও বলা হয়, আসামিরা ‘Unity Care’ ও ‘Public Parliament’ নামের প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদ, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং অন্যান্য পলাতক শীর্ষ নেতার সঙ্গে যোগসাজশে আওয়ামী লীগের পুনরুত্থান ও রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন বলে তদন্ত কর্মকর্তার অভিযোগ। এ ছাড়া ‘কালআজকাল.কম’ নামে একটি ফেসবুক পেজ ব্যবহার করে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা চালানোর অভিযোগও করা হয়েছে।
তবে রিমান্ড আবেদনে উত্থাপিত এসব অভিযোগের সত্যতা আদালতে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়েছে—এমন তথ্য সরবরাহ করা হয়নি। মামলার তদন্ত ও পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ায় অভিযোগগুলোর বিষয়ে আরও তথ্য জানা যেতে পারে।



