অল ক্রাইমস.টিভি ডেস্ক
উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের একটি কার্গো জাহাজ জব্দ করার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, এ ঘটনা পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ-এ অনুষ্ঠিতব্য গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-এর অধ্যাপক আমিন সাইকাল কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল-জাজিরা-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলতে পারে।
তিনি বলেন, “এই ধরনের পদক্ষেপ শুধু উত্তেজনাই বাড়াবে।” একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেন, এই ঘটনা ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিতব্য আলোচনার ইতিবাচক ফলাফল আসার সম্ভাবনাকে ‘টরপেডো’ বা নস্যাৎ করে দিতে পারে।
সাইকাল আরও উল্লেখ করেন, উভয় পক্ষের জন্য এখন এমন পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকা জরুরি, যা উত্তেজনা বাড়ায়—বিশেষ করে যদি তারা সত্যিই একটি স্থায়ী সমাধানে পৌঁছাতে আগ্রহী হয়।
এদিকে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর নীতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র একদিকে সংকট সমাধানের কথা বললেও অন্যদিকে ইরানের বিরুদ্ধে হুমকি অব্যাহত রাখছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
যুদ্ধবিরতির সময়সীমা শেষ হতে কয়েকদিন বাকি থাকায় উভয় পক্ষই বর্তমানে তীব্র চাপের মধ্যে রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালী-কে ইরানের জন্য একটি নতুন কৌশলগত প্রতিরোধক হিসেবে উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য, রবিবার (১৯ এপ্রিল) যুক্তরাষ্ট্র ইরানের একটি কার্গো জাহাজ জব্দ করে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, জাহাজটি মার্কিন নৌ অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করছিল এবং সতর্কতা উপেক্ষা করায় গুলি চালিয়ে সেটি জব্দ করা হয়।
এ ঘটনার জেরে উত্তেজনা আরও বাড়ে, যখন ইরান ওমান উপসাগরে মার্কিন সামরিক জাহাজকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালায়। এতে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।



