অল ক্রাইমস.টিভি ডেস্ক
কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী-এর হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ধীরে ধীরে স্পষ্ট হচ্ছে তদন্তে। চট্টগ্রাম থেকে কুমিল্লায় ফেরার পথে তিনি পরিকল্পিতভাবে পেশাদার ছিনতাইকারীদের ফাঁদে পড়েন—যা শেষ পর্যন্ত নির্মম হত্যায় রূপ নেয়।
তদন্তে জানা গেছে, সেদিন রাতে তিনি চট্টগ্রাম থেকে বাসে করে ফিরছিলেন। পদুয়ার বাজার বাসস্ট্যান্ড পার হয়ে কিছুটা সামনে নেমে পড়েন। এরপর আবার স্ট্যান্ডে ফিরতে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠেন। কিন্তু সেটিই ছিল তার জীবনের শেষ যাত্রা। সেই সিএনজিতে আগে থেকেই ওঁৎ পেতে ছিল চারজন ছিনতাইকারী—সামনে চালকসহ দুজন, আর পেছনে দুজন।
র্যাব-১১-এর কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে, চালক প্রথমে তাকে আশ্বস্ত করে বলে—“আর একজন হলেই গাড়ি ছেড়ে দেব।” এরপর তাকে পাশে বসানো হয় এবং কিছু দূর যেতেই পরিস্থিতি পাল্টে যায়। ধারণা করা হচ্ছে, গভীর রাত হওয়ায় এবং ক্লান্তিতে বুলেট বৈরাগীর চোখে ঘুম ছিল। হঠাৎ অস্ত্রের মুখে পড়লে তিনি বিচলিত হয়ে পড়েন এবং হয়তো আত্মরক্ষার চেষ্টা করেন।
র্যাব কর্মকর্তাদের মতে, এই চারজন সরাসরি হত্যাকাণ্ডে জড়িত, আরেকজন তাদের সহযোগী হিসেবে পরে লুট করা ব্যাগ ও মোবাইল ফোনের সঙ্গে যুক্ত ছিল। পাঁচজনই আগে থেকে রেলওয়ে ডাকাতি মামলার আসামি—যা থেকে বোঝা যায় এটি একটি সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের কাজ।
ছিনতাই শেষে চলন্ত সিএনজি থেকে তাকে ফেলে দেওয়া হয় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে, কোটবাড়ি এলাকা-র একটি হোটেলের পাশের ফুটপাতে। সড়কে পড়ার সময় তার মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে, যা মৃত্যুর প্রধান কারণ বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনাস্থলটি ছিল মহাসড়কের উল্টো পাশে—যেখানে তার যাওয়ার কথা ছিল না, যা শুরুতেই তদন্তকারীদের সন্দেহ জাগায়।
নিখোঁজ হওয়ার প্রায় সাত ঘণ্টা পর, শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকাল পৌনে ৮টার দিকে ময়নামতি হাইওয়ে থানা পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে। স্থানীয়রা জানান, সকালে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
ঘটনার পর ছিনতাইকারীরা সিএনজি নিয়ে দ্রুত সরে পড়ে এবং চৌয়ারা বাজার এলাকার উলুর চর মৌজার আজিজ ম্যানশনের দিকে পালিয়ে যায়। তবে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করে তদন্ত চালিয়ে তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় র্যাব। এক কর্মকর্তা বলেন, “এটা মেনে নেওয়া যায় না—এই অনুভূতি থেকেই আমরা সবাই একসঙ্গে কাজ করেছি। খুব অল্প সময়েই তাদের খুঁজে বের করা সম্ভব হয়েছে।”
বুলেট বৈরাগী কর্মরত ছিলেন কুমিল্লার বিবিরবাজার স্থলবন্দর কাস্টমসে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন এক সন্তানের জনক। হৃদয়বিদারক বিষয় হলো—২৭ এপ্রিলই ছিল তার একমাত্র সন্তান অব্যয় বৈরাগীর প্রথম জন্মদিন। আনন্দের সেই দিনটি পরিণত হয়েছে গভীর শোকে।



